এক বেডেই একাধিক শিশু; চট্টগ্রামে হাম-ডেঙ্গু রোগীদের চাপ বাড়ছেই

হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের চিত্র
হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের চিত্র | ছবি: এখন টিভি
0

হাম-ডেঙ্গুর ‘আক্রমণে’ বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য। কয়েকগুণ বেশি রোগীর চাপে একই বেডে ঠাঁই নিয়েছে তিন-চার শিশু, কারো—বা চিকিৎসা চলছে মেঝেতে। অক্সিজেনের সংকট, গাদাগাদি পরিবেশ আর চিকিৎসার সীমাবদ্ধতায় অসহায় স্বজনরা। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

১৪ মাসের হাম-আক্রান্ত সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন বাবা এরশাদ। জিজ্ঞেস করতেও হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। বলেন, ‘এখানে কেউ এসে দেখেও না, জিজ্ঞেসও করে না যে বাচ্চার কী হইছে? কেমন আছে? কী লাগবে? কেউ একটা ইনজেকশনও করে দেয় না। এখানে পাঠায়, ওখানে পাঠায়!’

এরশাদ জানান, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায়ও মেলেনি বেড কিংবা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা। এমন অনেক রোগীর ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে।

ওয়ার্ডের ভেতরের অবস্থা আরও করুণ। একটিমাত্র বেডে ঠাঁই নিয়েছে হাম-আক্রান্ত ৩-৪টি অসুস্থ শিশু, সঙ্গে স্বজন। সংক্রমণের প্রকোপ বাড়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেলের এমন চিত্র সপ্তাহখানেক ধরে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১২০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি প্রায় ৫ গুণ, যাদের বেশিরভাগই হাম এবং নিউমোনিয়া আক্রান্ত। অপ্রতুল অক্সিজেন আর গাদাগাদি পরিবেশে তৈরি হয়েছে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি।

একদিকে ছোঁয়াচে রোগ হামের ঝুঁকি, আরেকদিকে তীব্র গরম আর বেড সংকট। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমন করুণ চিত্রে রোগী এবং স্বজনদের প্রশ্ন— কবে মিলবে পর্যাপ্ত বেড এবং তাজা প্রাণগুলোর স্বস্তি?

বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে সাড়ে ৭ হাজার। পজিটিভ শনাক্ত ৭৪৩ জন, আর এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ শিশু।

চমেকের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. লিপু পাল বলেন, ‘আমাদের হাম ওয়ার্ডে আছে ৫০টি বেড। আমাদের পিএসইউতে আছে ১০টি হামের জন্য। আর এর বাইরে আমাদের ওয়ার্ডে ১৬টি আইসোলেশন বেড আছে। আমাদের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগীর সংখ্যা। প্রায় প্রতিদিনই রোগী ভর্তি হচ্ছেন।’

হামের এই তাণ্ডবের মাঝে গত দুই মাস ধরে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ডেঙ্গুও। এ বছর আক্রান্ত প্রায় তিন হাজার জনের এক হাজারই হয়েছে গত মাসে, এ মাসে মাত্র ১৪ দিনেই ৯২৬ জন। এ বছর মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। আগামী মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে ধারণা চিকিৎসকদের।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘ভ্যাকসিন প্রক্রিয়াটা হয়তো আবার চালু হচ্ছে, সবাই জানে। এই মাসে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে হয়তো চালু হবে। যারা যারা বাদ পড়েছে, তাদের সবাইকে এই ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এটা যদি করতে পারি এবং এটার ৮০ শতাংশও যদি কাভার করতে পারি, তাহলে আমাদের সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে।’

ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে পর্যটন শহর কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায়ও। কক্সবাজারে চলতি বছর ৩ হাজার ৮৫৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানেও বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিংঞো বলেন, ‘এখানে ডেঙ্গু রোগ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে আমি মনে করি, এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা করতে গেলে ইউএনএইচসিআর এবং ট্রিপলআরসি সংস্থাগুলোর চিকিৎসক আছে এখানে, তিনি দেখভাল করেন। কোনো জটিল রোগী যদি আসে, সাধারণত লজিস্টিক সাপোর্ট থেকে শুরু করে তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় তারা সহযোগিতা করে থাকে।’

এসএইচ