প্রায় ৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের বগুড়া সিটি করপোরেশনে ১০ লাখ মানুষের বসবাস। আবাসনের চাহিদায় প্রতিনিয়তই গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। তবে এসবের বেশিরভাগই নির্মাণ হচ্ছে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই।
অনুমোদিত নকশার চেয়ে বেশি উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে নগরীর অসংখ্য ভবন। দুটি বহুতল ভবনের মাঝখানে নির্দিষ্ট দূরত্ব রাখার কথা থাকলেও মানেনি বেশিরভাগ দালান মালিক। বাণিজ্যিক ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশায় নিচতলা পার্কিং দেখালেও সেখানে ভাড়া দেয়া হয়েছে ব্যাংক, শোরুমসহ বিভিন্ন দোকান। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসব ভবন নির্মাণের সময় কোনো রকম তদারকি না মেনে নকশার অনুমোদন দিয়েই দায় সেরেছে পৌর কর্তৃপক্ষ- এমনটাই বলছেন সচেতনরা।
স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার কাছ থেকে পাশ করা প্লান অনুযায়ী ভবনগুলো নির্মাণ না করার কারণে দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন তারা।
আরও পড়ুন
অতিরিক্ত উচ্চতা থাকায় ১০৪ টি ভবনের বর্ধিত অংশ অপসারণের নোটিশ দিয়েছে বগুড়া পৌরসভা। বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশন হওয়ায় করপোরেশনের আইন অনুযায়ী বর্ধিত অংশের বৈধতা চান ভবন মালিকদের অনেকে। কেউ কেউ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভবনের বর্ধিত অংশ রাখতে চান।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘প্ল্যানে কোনো ভুল আছে বলে আমাদের জানা নাই, প্ল্যানে ওভাবে পাস হয় না আমাদের জানামতে। কিন্তু যখন আমরা কাজগুলো করতে যাচ্ছি, তখন হয়তো প্ল্যানটা অনেক সময় অমিল করতেছি।’
এসব ভবনে ভূমিকম্পে অধিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি পৌরসভা। তবে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে আইন প্রয়োগের ধরনও। শীঘ্রই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান এ কর্মকর্তা।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ আল মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলা রেজিস্টারকে চিঠি দেয়া ছিলো যেন এ ধরনের কোনো ফ্ল্যাট, প্লট কোনো রেজিস্ট্রেশন না হয়। নেসকোকে চিঠি দেয়া ছিলো, তারা যেন এ অননুমোদিত তলায় কোনো ধরনের বিদ্যুৎ কানেকশন না দেয়। এরই মধ্যেই আমরা এ ধরনের অবৈধ বিষয়গুলো নিয়ে সোচ্চার হয়েছি। আগামী দিনে ফাইলগুলো ধরে অননুমোদিত অংশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বগুড়া সিটি করপোরেশন থেকে বসতবাড়ির জন্য দেয়া হোল্ডিং নম্বর অনুযায়ী নগরীতে কাঁচা পাকা বসত বাড়ি রয়েছে মোট ৯০ হাজার।




