যানজটের ভারে হারিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী চিরচেনা রূপ

রাজশাহী নগরী
রাজশাহী নগরী | ছবি: এখন টিভি
0

নির্মল বাতাস, পরিচ্ছন্ন-প্রশস্ত সড়ক এবং শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী শহর এখন ধুঁকছে যানজটের ভারে। নগরীর জিরো পয়েন্ট, সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, রেলগেট, তালাইমারি, কোর্ট স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে দিনভর যানজট লেগেই থাকে। এতে দুর্ঘটনাসহ জনদুর্ভোগও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

প্রশস্ত সড়ক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঝলমলে আলো আর শিক্ষা নগরী এ পরিচয়েই দেশের মানুষের কাছে একসময় আলাদা মর্যাদা পেয়েছিল রাজশাহী। এক সময়ের সেই শান্ত-স্বস্তির শহর এখন যানজটে স্থবির। শহরের সড়কগুলোতে এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা রাজত্ব।

সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে, রেজিস্ট্রেশনকৃত ব্যাটারি চালিত রিকশার সংখ্যা ৫ হাজার ৮১৯টি। আর অটোরিকশার সংখ্যা ৮ হাজার ৯৭০টি। তবে বেশিভাগেরই বৈধ কাগজপত্র নেই, নেই নির্ধারিত রুটে চলার বাধ্যবাধকতা, এমনকি ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতাও। রয়েছে যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, রাস্তার মাঝে হঠাৎ থেমে যাওয়া, উল্টো পথে চলা আর যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা।

একজন পথচারী বলেন, ‘রাস্তায় চলাফেরা করা এত কষ্ট, যেখানে আগে আমরা ৫ মিনিটের মধ্যে আস যেত, সেখানে এখন আধা ঘণ্টা পার হয়ে যায়। আমাদের অফিস ফেলে আমার বাচ্চাকে আনতে হয়। বিভিন্ন কারণে এগুলো আমাদের জন্য খুব কষ্টদায়ক হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।’

আরও পড়ুন

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনা।

রুয়েট নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ওয়ারেসুল হাসান নিপুন বলেন, ‘বড় রিকশাগুলোর জন্য এক ধরনের অনুমোদন আছে। এখন নাম্বার প্লেট যদি বা ওই ধরনের রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের বেসিসে যদি তাদের একটা রেগুলেশন করে দেয়া যেত, তাহলে হয়তোবা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কিছু অটো চলবে, বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত কিছু। এভাবে করে যদি একটু রেগুলেশন করা যায়, আমি বলবো যে সেটা শহরের মানুষের জন্য ফ্রুটফুল হবে।’

অবৈধ রিকশা ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আইনের মধ্যে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানালেন ট্রাফিক পুলিশের এ কর্মকর্তা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘অটোগুলো যেগুলো বৈধ বা অবৈধ যেভাবেই বলি আমরা, সেগুলোকে আমরা আইনের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে আনার আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবং এ ব্যাপারে আমাদের যে সিটি কর্পোরেশন, মেইন স্টেকহোল্ডার বা তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাদের সাথেও আমরা এ ব্যাপারে কথা বলেছি। তারাও এ ব্যাপারে আন্তরিক এবং তারাও এটা চেষ্টা করছেন যে কীভাবে এই অটোগুলো কমিয়ে নিয়ে আসা যায়।’

নাগরিক সেবা নিশ্চিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করবেন বলে জানান নগর প্রশাসক।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘অটো রিকশাগুলো এবং অটো চালিত যেগুলো, ব্যাটারি চালিত যানবাহন আছে। একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আমাদের রাজশাহী শহরে নিয়ে আসতে হবে। সেই জন্য আমরা কাজ করছি। যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো বাস্তবায়ন করবো।’

সঠিক পরিকল্পনা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রাজশাহীকে নগরী আবারও ফিরবে আগের রূপে এমনটাই প্রত্যাশা।

জেআর