আজ (শনিবার, ২৭ জুন) সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নিহত কামালের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। শোকাহত পরিবারকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন স্বজনরা।
এর আগে, শুক্রবার (২৬ জুন) ইতালির সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) ও মেয়ে আরওয়া ইসলাম আরিশা (৫)। একই ঘটনায় কামালের ছেলে আমির হোসেন অয়ন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
কামালের চাচাতো ভাই সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে আশপাশের প্রতিবেশী ও নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে জমায়েত হয়েছেন। ইতালীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আহতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নিহত কামালের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে আমার ছেলে যখন দেশে এসেছিলো, তখনই আমাদের বাড়িতে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে একটি উড়ো চিঠি দেয়া হয়। বিষয়টি আমি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনসহ সবাইকে জানাই। আমার ছেলে অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলো। আমি এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই।’
ইতালির সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিক সুরতহাল শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
খবর পেয়েই রোম পুলিশের বিশেষ শাখা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। তবে কী কারণে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি প্রশাসন।




