নির্মাণের কয়েক মাসেই ধসে পড়ছে ৯ কোটি টাকার সড়ক

ধসে পড়ছে সড়ক
ধসে পড়ছে সড়ক | ছবি: এখন টিভি
0

গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজাবাড়ি-দমদমা সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হতেই হঠাৎ করে দেবে গেছে নয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ। ধারাবাহিকভাবে সূতি নদীতে দেবে যাচ্ছে সড়কটি। এরই মধ্যে সড়কের বড় অংশ দেবে গেছে। ভেঙে যাচ্ছে নদীর তীরে বসানো ব্লকগুলো। সড়কের কাজ নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নির্মাণ কাজ শেষ করে বিল উত্তোলন করে নিলেও রয়েছে জামানত। সেই টাকায় সংস্কার হবে বলছে এলজিইডি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাসিন্দাদের জেলায় সহজ যাতায়াতের জন্য ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজের অনুমতি পায়। ২০২৪ সালে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২৬ সালে। সূতি নদী ঘেঁষে যাওয়া সড়কের চিনাশুকানিয়া গ্রামের একটি বিশাল অংশ এরই মধ্যে দেবে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। নদীর তীর বসানো ব্লক এরই মধ্যে ভেঙে এলোমেলো হয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে। সড়কটি টিকিয়ে রাখতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোড়াতালি দিচ্ছে, কিন্তু শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি বালুর বস্তা দিয়ে রক্ষা করা হচ্ছে। কিছু ব্লক সড়কের ওপর তুলে রাখা হচ্ছে। দেবে যাওয়া অংশ সরু হওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন।

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে কয়েকমাস। হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। বিরাট অংশে ফাটল। এ সড়কটি নির্মাণ করার আগে নদীর তীর বালু মাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণ কাজ শুরু করে। মাটি বালু ঠিকমতো না বসার কারণে পাকা সড়ক দেবে গেছে।’

মেসার্স সালাম ট্রেডার্স ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম জানান, নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েকমাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তোলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেবো। তাতে সমস্যা কোথায়।

যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করবো এটা কি সঠিক পদ্ধতি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন এলজিইডির এ কর্মকর্তা।

শ্রীপুর এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, ‘সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকা দিয়ে মেরামত করা হবে। নিম্ন মানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এমন প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

জেআর