৫০০ শয্যা বিশিষ্ট শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন বগুড়াসহ আশপাশের প্রায় ৬ জেলার মানুষ। শয্যা সংখ্যা ৫০০ হলেও সব সময় রোগী ভর্তি থাকে প্রায় আড়াই হাজার।
শয্যা সংকটে রোগীকে থাকতে হয় ওয়ার্ড বা বারান্দার মেঝেতে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। রোগীদের থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ওয়ার্ডগুলোও। তীব্র গরমে ফ্যান সংকট, ময়লা- আবর্জনার দুর্গন্ধ আর ব্যবহার অনুপযোগী শৌচাগার নিয়ে রোগীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
একজন রোগী অভিযোগ করে বলেন, ‘ইউরিন টেস্ট করাতে হবে। ইউরিন টেস্টে ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি জঘন্য অবস্থা। ডুবুডুবু পানি, মানে নোংরা, সবকিছু খেলানো।’
বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। ক্যাশ কাউন্টার, নমুনা দেয়া এবং রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য দাঁড়াতে হয় লম্বা লাইনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে করাতে পারেন না পরীক্ষা। রিপোর্ট পেতে লেগে যায় তিন থেকে চার দিন- এমন অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
কেবল ভেতরে নয়, ভোগান্তি রয়েছে বহির্বিভাগেও। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে প্রতিদিন সেবা নিতে আসেন প্রায় তিন হাজার রোগী। এসব রোগীদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ।
রোগীরা জানান, এখানে কোনো মূল্যায়ন নাই? সকাল থেকে আইসা দাইড়া থাকতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কত হাজার হাজার মহিলা সিরিয়ালে থাকতে হয়।
কেবল ভেতরে নয়, ভোগান্তি রয়েছে বহির্বিভাগেও। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে প্রতিদিন সেবা নিতে আসেন প্রায় ৩ হাজার রোগী। এসব রোগীদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ।
রোগীর স্বজনরারা জানান, হাসপাতালে কোনো বেড না। বেডের অনেক সমস্যা। ফ্যানও নেই। অনেক কষ্ট করে মানে থাকতে হচ্ছে তাদের।
রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে ও ভোগান্তি কমাতে শয্যাসংখ্যার পাশাপাশি জনবল, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাড়াতে হবে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালকে ১৫০০ শয্যায় উন্নীত করার আবেদন করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ‘২০০০ থেকে ২৫০০ রোগী রেগুলার থাকে অন্তর্বিভাগে এবং বহির্বিভাগে ২৫০০ থেকে ৩০০০ রোগী প্রতিদিন সেবা নেয়। কিন্তু আমাদের এখনও জনবল সেই ৫০০ শয্যার অনুপাতে যে জনবল, সেটাই।’
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে গত দুই দশকে রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ, যদিও বাড়েনি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে তাই শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি বগুড়াসহ আশপাশের ছয় জেলার মানুষের।





