মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন গবেষণা ইনস্টিটিউটে, কিন্তু কেন এবং কী হবে একে নিয়ে?

অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ | ছবি: সংগৃহীত
0

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঠাঁই পাওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সবচেয়ে আলোচিত ও ভাইরাল অ্যালবিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে এবার সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) নেয়া হয়েছে (Albino Buffalo Donald Trump shifted to BLRI Savar)। অনন্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও অসাধারণ চুলের স্টাইলের কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ঝড় তোলা এই মহিষটিকে বর্তমানে বিএলআরআই-এর বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে (Why Buffalo 'Donald Trump' Shifted to BLRI: Albino Buffalo Research and Future Plans)।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় গত রোববার জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে বিএলআরআই বিজ্ঞানীদের কাছে হস্তান্তর করে (Livestock Ministry order on viral buffalo)।

আরও পড়ুন:

কেন নেয়া হলো গবেষণা ইনস্টিটিউটে ও বিজ্ঞানীদের ১৩ সদস্যের কমিটি (Why Buffalo Donald Trump Taken for BLRI Research)

মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর শারীরিক গঠন, বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য (Albino genetic trait) এবং এর উৎপাদনশীলতা পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক দল গঠন করা হয়েছে। মহিষ উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার দেবকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে বিএলআরআই কর্তৃপক্ষ।

কমিটির প্রধান গৌতম কুমার দেব জানান, ‘মহিষটিকে আপাতত ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে (Animal quarantine process at BLRI)। যেহেতু এটি দীর্ঘদিন চিড়িয়াখানায় সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে ছিল, তাই এটি কোনো ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষা করা এবং একে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত রাখাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য।’

দীর্ঘ মেয়াদে বাঁচিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ ও প্রজনন গবেষণা (Challenge of Fattening Buffalo and Breeding Research)

বিজ্ঞানীদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাঁচিয়ে রাখা এবং গবেষণায় ব্যবহার করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

মোটাতাজাকরণ বা ফ্যাটেনিং ইফেক্ট: কোরবানি হাটের জন্য খামারিরা এটিকে কৃত্রিম বা উচ্চ মাত্রার স্টেরয়েড-মুক্ত খাবার দিয়ে ফ্যাটেনিং (Buffalo fattening challenges) করেছিল। এ ধরনের অতিরিক্ত ওজনের পশুকে দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থ রাখা কঠিন।

প্রজনন উপযোগিতা পরীক্ষা: ২১ দিনের কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করবেন মহিষটি প্রজননের উপযোগী (Buffalo breeding capability check) কি না। যদি এর শুক্রাণু বা সিমেন ভালো মানের হয়, তবে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই বিরল জাতের মহিষের সংখ্যা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা শুরু হবে।

আরও পড়ুন:

খামার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেফাজত: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিহাস (History of Donald Trump Buffalo from Agro Farm to Police Custody)

এই মহিষটির ইতিহাস যেকোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। গত কোরবানির ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ লালন-পালন করা হচ্ছিল বিশাল আকৃতির এই অ্যালবিনো মহিষটি (Rabeya Agro Farm Narayanganj viral buffalo)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মাথার সোনালী অসাধারণ চুল দেখে খামারির ভাই শখ করে এর নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর কেরানীগঞ্জের জিনজিরার মনিরুজ্জামান নামের এক ক্রেতা এটি কিনে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। তবে ঈদের আগের দিন আকস্মিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে পুলিশ গিয়ে মনিরুজ্জামানের বাড়ি থেকে মহিষটিকে জব্দ করে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে (Police seized viral buffalo by Home Ministry order)। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে এর অস্থায়ী ঠিকানা হয়েছিল মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা। এবার বিজ্ঞানীদের গবেষণার টেবিলে স্থান পেল দেশ কাঁপানো এই মহিষ।

একনজরে মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’: খামার থেকে গবেষণা ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের কারণ ও ইতিহাস (Viral Buffalo Donald Trump's Journey, BLRI Research Committee & Reasons for Quarantine at a Glance)



মূল বিষয়
(Key Elements)
গবেষণা ও বর্তমান অবস্থা
(Research & Status Details)
আলোচিত ইতিহাস
(Viral History & Timeline)
বর্তমান অবস্থান
(Current Location)

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI), সাভার

১৪ থেকে ২১ দিনের বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

উৎপত্তি: রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম, নারায়ণগঞ্জ।

নামকরণের কারণ: মাথার চমত্কার সোনালী চুল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো দেখতে হওয়ায়।

আইনি মোড়: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে মিরপুর চিড়িয়াখানা ও পরে সাভারে পাঠায়।

গবেষণার প্রধান কারণ
(Research Purpose)

মহিষটি বিরল অ্যালবিনো (Albino) জাতের জিনগত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।

এর শারীরিক রোগমুক্ততা নিশ্চিতকরণ এবং কৃত্রিম প্রজনন সক্ষমতা (Breeding Capability) পরীক্ষা করা হবে।

বিশেষজ্ঞ প্যানেল
(Scientific Committee)

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার দেব-এর নেতৃত্বে গঠিত

১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক কমিটি মহিষটি পর্যবেক্ষণ করছে।

দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ
(Challenges Ahead)

ফ্যাটেনিং বা মোটাতাজাকরণ সমস্যা: খামারে কোরবানি হাটের জন্য একে অতিরিক্ত ওজন ও ফ্যাটেনিংয়ের উপযোগী করে তৈরি করায় দীর্ঘ মেয়াদে বাঁচিয়ে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: কোয়ারেন্টাইন শেষে মহিষটি সম্পূর্ণ সুস্থ প্রমাণিত হলে এর সিমেন/শুক্রাণু ব্যবহার করে দেশে এই জাতের মহিষ বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক গবেষণা শুরু হবে।

গবেষণা আপডেট নোটিশ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রটোকল অনুযায়ী সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য সাভারের বিএলআরআই (BLRI) কেন্দ্রে মহিষ 'ডোনাল্ড ট্রাম্প'-কে সরাসরি দেখার সুযোগ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ল্যাব টেস্টের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এর পরবর্তী চিকিৎসা ও ডায়েট চার্ট নির্ধারণ করবেন দেশের শীর্ষ পশুবিজ্ঞানীরা।

এসআর