গতকাল (শনিবার, ১৩ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি ১০ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সচিব, মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক।’
দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্তত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে অন্যান্য অনেক হাসপাতাল ভালো অবস্থানে রয়েছে।’
হাসপাতালের রান্নাঘরে অপ্রয়োজনীয় ও ব্যবহারের অনুপযোগী সামগ্রী জমিয়ে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এসব পুরনো ও নষ্ট জিনিসপত্র দ্রুত অপসারণ করতে হবে।’
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের পরিবেশ থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে, যা বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামী দুই দিনের মধ্যে রান্নাঘর, বাথরুমসহ হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিমুক্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এসব কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্য মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম সহ্য করা হয়েছে। এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। অতীতের ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম, সাখাওয়াত হোসেন খান, মামুন মাহমুদ, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মো. রায়হান কবির, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান।
বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে ২০টি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে নারীদের জন্য দুইটি ১ হাজার ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ১৮টি হাসপাতাল হবে ১ হাজার শয্যার।’
তিনি জানান, এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের চিকিৎসা, পঙ্গুত্ব পুনর্বাসন, মাতৃসেবা এবং সাধারণ চিকিৎসাসহ আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সব ধরনের সুবিধা থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি হাসপাতালে পাঁচটি করে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হবে। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য চারটি হেলিকপ্টারও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে ৮০ হাজার হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।




