কুমিল্লায় মেডিকেল বর্জ্য ছড়াচ্ছে জীবাণু; হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য

মেডিকেলের বর্জ্য
মেডিকেলের বর্জ্য | ছবি : এখন টিভি
0

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ক্লিনিকে নেই মেডিকেল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা। ফলে রোগীদের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, সূচ, রক্তমাখা তুলা, ব্যান্ডেজ, টিউমারসহ বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফেলা হচ্ছে যেখানে সেখানে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যবিদরা। চিকিৎসকরা বলছেন, মেডিকেল বর্জ্য থেকে সহজেই অন্যের শরীরে প্রবেশ করতে পারে বিভিন্ন রোগের জীবাণু।

হাসপাতালের শহর কুমিল্লায় প্রতিদিন গড়ে উৎপাদন হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টন মেডিকেল বর্জ্য। যার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই সংক্রামক জীবাণুবাহী। কিন্তু জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক এসব বর্জ্য সংরক্ষণ, অপসারণ ও পরিশোধনে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করছে না হাসপাতাল ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

শুনতে গা শিউরে উঠার মতো হলেও প্রতিদিনই এ সাধারণ ডাস্টবিনে ফেলা হচ্ছে হাসপাতালের সিরিঞ্জ, সুঁই, রক্তমাখা তুলা, এমনকি মানবদেহের নানা ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য। মানা হচ্ছে না পৃথক কোনো কালার কোড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কঠিন বর্জ্য থেকে হেপাটাইটিস এ, বি, ই, যক্ষ্মা, চর্ম ও যৌন রোগের জীবাণু ছড়িয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে জনস্বাস্থ্য!

এসব বর্জ্য সিটি করপোরেশনের গৃহস্থালি বর্জ্য টানার খোলা গাড়িতে সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গেই ফেলা হচ্ছে ডাম্পিং স্টেশনে।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘দূষিত হয়ে বর্জ্যর সঙ্গে যেগুলো ময়লা জীবাণুগুলো আছে এগুলো বাতাসের সঙ্গে আমাদের এদিকে ছড়াচ্ছে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘যারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছে তাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ রইল যে আগামীতে এ ধরনের কাজ যেন আর না হয় সিটি করপোরেশনের অতি দ্রুত এগুলো অপসারণ করা উচিত।’

ইনসিনারেটরসহ নানা সংকটে অপরিশোধন মেডিকেল বর্জ্য ডাম্পিং করার কথা স্বীকার করে অপসারণ সংস্থার দাবি, বেশ কয়েকটি নির্দেশনার পরও কালার কোডের বিধি মানছে না কোনো হাসপাতালই। আর পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বিধি না মানলে অভিযোগ পেলেই নেয়া হবে ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন:

কুমিল্লা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরিচালক মোহাম্মদ মতিন বলেন, ‘পাঁচটা কালার কোড তো সম্ভব না। বলেছি ওইটাই দুইটাতে দেন। একটা কঠিন বর্জ্যটা আলাদা একটা ড্রামে দেন, লাল ড্রামে আর সাধারণ বর্জ্যটা একটা কালো ড্রামে দেন। এটা হচ্ছে না। আমি চিঠি প্রেরণ করছি। চিঠিতে এটা কোনো গুরুত্ব পাচ্ছি না।’

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে মেডিকেল বর্জ্য নির্দিষ্ট নিয়মে সংরক্ষণ এবং পরিশোধনের তাগিদ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। অথচ কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন আলী নুর বশির আহমেদ বলেন, ‘এখানে অনেক সময় হেভি মেটালস থাকতে পারে, তখন শরীরের ক্ষতি হতে পারে। কেমিক্যাল গুলোর দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে, ধারালো বর্জ্য দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে এবং যেই বর্জ্যটা সংক্রামক সেটা থেকে মানুষ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সেজন্য মেডিকেল বর্জ্য নির্দিষ্ট নিয়মেই এটা ম্যানেজ করা উচিত।’

কুমিল্লাহ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘ইউডিসিডিপি প্রজেক্ট আছে বা আমাদের অন্যান্য প্রকল্প আছে, আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটা প্রকল্প এখানে বাস্তবায়ন করা যায় কিনা সেই বিষয়টা নিয়েও কিন্তু একাধিকবার কথা হয়েছে।’

সংক্রামক ঝুঁকি এড়াতে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে নির্দিষ্ট নিয়মে মেডিকেল বর্জ্য সংরক্ষণ নিশ্চিতে পরিবেশ ও সিটি করপোরেশনের যথাযথ আইন প্রয়োগ চায় নাগরিকরা।

এফএস