নোয়াখালীতে বাড়ছে কিশোর অপরাধীদের আধিপত্য; আতঙ্কে এলাকাবাসী

কিশোর গ্যাং
কিশোর গ্যাং | ছবি : এখন টিভি
0

নোয়াখালী জেলায় গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক কিশোর অপরাধী চক্র। নিজেদের নামে গ্রুপ তৈরি করে দেয়ালে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে শক্তি প্রদর্শনী। উঠতি বয়সে নিজেদের হিরো সাজাতে গিয়েই মূলত এসব অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। কিশোরদের এ অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

ছোট ভাই কামালের কবরের পাশে বড় ভাই আবুল কালাম। গেল ৩০ মে রাতে তার ছেলে ফরহাদের সাথে পাশের বাড়ির কিশোরদের দ্বন্দ্বে শুরু হয় দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এসময় ফরহাদকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান তার চাচা কামাল।

নিহত কামালের ভাই আবুল কালাম বলেন, ‘আমার ভাইকে আমি পাবো না আর। আমার ভাই নেই। আমার ভাইরে কেমনে বাঁচাবো? হসপিটালে জ্ঞান হইছে হসপিটাল থেকে বলছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বলেন, ‘আমিও বললাম ওদের, কামাল ভাইকে তোরা মারছিস কেন? সমস্যা কি? এই কথা বলতেই আমাকেও মারে। বাসা থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করার সময় কামাল মামা নিজের স্বয়ং বাধা দিছে। বাধা দেয়ার সময় কেন বাধা দিছে এ কারণে উনাকে আঘাত করে।’

একই রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার শরিফপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ হারান জোবায়ের হোসেন রাকিব নামে এক যুবক। গত ৪ এপ্রিল সদর উপজেলার দাদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে সেলিম নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। গত এক বছরে নোয়াখালী জেলায় কিশোরগঞ্জ সদস্যদের হাতে প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন। এছাড়া জেলায় প্রতিদিনই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর অপরাধীদের একাধিক গ্রুপ।

জেলা শহরের প্রধান সড়কে প্রকাশ্যেই মহড়া দিচ্ছে বিভিন্ন চক্রের সদস্যরা। এমন গ্রুপের সংখ্যা দুইশোর বেশি বলে ধারণা করা হয়। এসব গ্রুপের সদস্যরা কখনো অস্ত্র হাতে অন্যকে ধাওয়া করছে, কখনো আবার দিচ্ছে অস্ত্রের মহড়া।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমাদের নোয়াখালীতে যেখানে সেখানে পাড়া মহল্লায় কিশোর গ্যাং উদ্ভব ও মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। এমনকি যে এ যে মাদক মাদক কিন্তু এখন প্রচুর ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়াছড়ি।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘এসটিজি তারপরে বি বিটিআর এরকম নামে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কিশোর গ্যাং তাদের আধিপত্য দেখানোতে অলরেডি রাস্তায় নেমে গেছে। আমরা এর প্রতিকার অতি দ্রুত প্রশাসনকে বলব অতি দ্রুত এটার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এরা হয়ে উঠছে বেপরোয়া। যে কারণে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে আটক হলেও সহজেই ছাড়া পাচ্ছে তারা। ভয়ে মুখ খুলতে চান না অনেকেই।

এলাকাবাসীদের একজন বলেন, ‘পানির মতন নিয়ে গেছে। কোকের বোতলের মতন নিয়ে গেছে। কারোরই কথা শোনে না। গাজা খায় ওখানে। ওয়ালের পাশে জঙ্গলের পাশে বিক্রি করে খাচ্ছে।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘নিষেধ করলে ওদেরকে হুমকি দেয়। তোদেরকে মেরে ফেলব। বাড়ি রাস্তা থেকে ঘর থেকে কীভাবে বাইর হোস আমরা দেখবো।’

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায় না বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘কোনো কোনো জায়গায় নাম আসতেছে তাদের অপরাধে জড়িয়ে পরছে। আমরা রেগুলার মেম্বার নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো এবং এর বাইরেও আমরা থানা এবং আমাদের গোয়েন্দা পুলিশের টিম নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। যারা কিশোর হয়ে অপরাধে জড়িত হবে, কোন ভাবে তাকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ফ্রন্ট লাইনে আমরা থাকবো।’

শুধু পুলিশি অভিযান নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমন্বিত চেষ্টায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকানোর পরামর্শ স্থানীয়দের।

এফএস