আজ (রোববার, ৭ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় তার দ্বিতীয় বাড়িতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ।
তিনি টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দার মৃত কবির আহমদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ছৈয়দুল হকের বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। অভিযানের সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় শহিদুল হকের বাড়ি থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেংগাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। এছাড়া নামের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া আরও কিছু মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, ‘ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি হত্যা ও গুমের অভিযোগও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।’
আরও পড়ুন:
আটকের পর ছৈয়দুল হককে রামু থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছৈয়দুল হক একজন পঙ্গু ব্যক্তি এবং তার দুই পা নেই। তবে তার জীবনযাপন নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন।
তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুধু বাড়ির ভেতরেই নয়, আশপাশের সড়কেও রয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কী কারণে এত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ছৈয়দুল হকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত নুরুল আলমও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দুজনকেই তারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সংগ্রহ করে মালয়েশিয়ায় পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে পাঠানোর নামে বিভিন্ন সময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের বিদেশে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি নুরুল আবসার নামের এক ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ করেছে, মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাসে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেয়া হয়েছিল। পরে তিনি বিদেশে নানা দুর্ভোগের শিকার হন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ছৈয়দুল হকের বাড়িতে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা ও এআরও এর সদস্যদের যাতায়াত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত এই অভিযানকে মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




