কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ফেরিটিতে আনুমানিক ১৭৯ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ৭৬ জন প্রাণে বেঁচে গেছেন। এখন পর্যন্ত ৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি নিখোঁজদের সন্ধানে ডুবুরিদের তল্লাশি চলছে।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর চ্যারিটিতে জড়ো হয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। প্রিয়জনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন তারা। তিন সন্তানের মধ্যে দুজনকে হারানো সামান্থা রামিন বলেন, ‘আমি জানি আমার সন্তান ওই নৌকায় ছিল।’ তার ছোট মেয়ের মরদেহ উদ্ধার হলেও ছোট ছেলে এখনো নিখোঁজ। রামিন বলেন, ‘আমি জানি সে ওখানেই আছে। আমি জানি সে ওখানেই আছে। আমি চাই তারা আমার সন্তানকে খুঁজে বের করুক।’
৮৭ বছরের পুরনো নৌযান ‘এমভি বারিমা’ গত শনিবার জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইতুমার উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু এসেকুইবো উপকূলের কাছে ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে এটি উল্টে যায়। ফেরির যাত্রী তালিকায় ১৩৩ জনের নাম থাকলেও কর্তৃপক্ষ এখন মনে করছে, দুর্ঘটনার সময় সেখানে ১৭৯ জন পর্যন্ত যাত্রী ছিলেন।
জীবিতদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ বাড়ছে। উদ্ধার হওয়া অনেক যাত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে আটকে ছিলেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরিটি যাত্রী ও ভারী পণ্যে বিপজ্জনকভাবে বোঝাই ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল ইঞ্জিন, গাড়ি, জ্বালানি ভর্তি পাত্র ও বাণিজ্যিক পণ্য। এক জীবিত যাত্রী জানান, আগের যেকোনো যাত্রার তুলনায় এবার নৌকাটি অনেক বেশি ভিড় ছিল। ডেকের নিচে কীভাবে পণ্য ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছিল, তার বর্ণনাও দেন তিনি।
জীবিতরা আরও অভিযোগ করেন, যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ফেরিটির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু ফিরে না গিয়ে ক্রুরা সাগরেই সেটি মেরামত করার চেষ্টা করেন। যাত্রীরা নৌযানে পানি ঢোকার কথা বললেও ক্রুরা তা ‘স্বাভাবিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে যাত্রী ও পণ্য উভয়ের ক্ষেত্রেই ফেরিটি ধারণক্ষমতার নিচে ছিল। তবে পরস্পরবিরোধী বিবরণের কারণে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না বলে তারা স্বীকার করেছেন। সামুদ্রিক প্রশাসন বিভাগের প্রধান বলেন, ফেরিটি কীভাবে বোঝাই করা হয়েছিল এবং তদারককারী কর্মীরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন কি না এসব তথ্য নিশ্চিত হতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস মঙ্গলবার বলেন, সরকারের লুকানোর কিছু নেই। অবহেলা বা ফৌজদারি অপরাধসহ যে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এরই মধ্যে উদ্ধার হওয়া ক্যাপ্টেন ও অন্তত একজন ক্রুকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, তাদের দুজনের শরীরেই গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এত পুরনো একটি নৌযান কেন এখনো চলাচল করছে জানতে চাইলে কর্মকর্তারা বলেন, ভারত থেকে ১ কোটি ২৭ লাখ ডলারে কেনা একটি বিকল্প ফেরি পোর্ট কাইতুমায় বিশেষ জেটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। এমভি বারিমার সবশেষ বড় মেরামত হয় ২০২৪ সালে। অক্টোবরে ফেরিটির আরও রক্ষণাবেক্ষণের কথা ছিল।





