পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা; খোলা আকাশের নিচে দিনভর অপেক্ষা

পুশইনের চেষ্টা
পুশইনের চেষ্টা | ছবি: এখন টিভি
0

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ (শুক্রবার, ৫ জুন) ভোরে তাদের কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে পুশইন করা হয়।

বিষয়টি নজরে এলে তাদেরকে সীমান্তে নোম্যান্সল্যান্ডেই আটকে দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। এ ঘটনায় ওই সীমান্তে বিজিবি বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি কেউ। বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

একইসঙ্গে বিজিবিও অবৈধভাবে পুশইন করা ব্যক্তিদের গ্রহণ করবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে। সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাঙ্কার তৈরি করে অবস্থান নিয়েছে বিজিবি জোয়ানরা। এদিকে ভারতে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পরে এই প্রথমবারের মতো পুশইনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে দিনভর কোনো সমাধান না হওয়ায় কড়া রোদের মধ্যেই খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করতে হচ্ছে পুশইনের চেষ্টার শিকার ১০ জনকে। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে তাদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে তাদেরকে পুশইন করা হয়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা তাদের সীমান্তেই আটকে দেয়। এসময় দুই বাহিনীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত ১০ জনকে সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিএসএফও নিচ্ছে না, বিজিবিও নিচ্ছে না। শিশু ও নারীসহ ১০ জন অমানবিক কষ্টের শিকার হচ্ছেন। আমরা সীমান্তে কোনো উত্তেজনা চাই না। সেই সঙ্গে এমন পুশইনও চাই না।’

হাাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, ‘বিএসএফ সুযোগ পেলেই এই সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে। এই মানুষগুলো যদি সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, এটা যদি নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে তাদের আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত দেয়া হোক। অবৈধ প্রক্রিয়ায় সীমান্ত দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া কোনোমতেই কাম্য নয়।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা সাফ জানিয়ে দিয়েছি অবৈধ প্রক্রিয়ায় পুশইন করা ব্যক্তিদের আমরা গ্রহণ করবো না। বিএসএফও তাদের গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। তারা এখনো সীমান্তেই অবস্থান করছে। আমরা সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’

এসএস