আজ (মঙ্গলবার, ২ জুন) ভোরে মালিগ্রাম এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নিহতরা হলেন— ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্ৰামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান (৫০) ও তার পুত্র আরিফ ইসলাম (২৪), রাকিব (১৮), ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়শা বেগম (২৮) এবং মনিরামপুর উপজেলার আটঘরা গ্রামের চালক জাহিদ (২৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফ ১১ বছর আগে সংসারের হাল ধরতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর প্রবাসে। মালয়েশিয়ায় ঘাম ঝরানো উপার্জনে ৫ শতক জমি কিনে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশক পর, গতকাল সোমবার (১ জুন) রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফ। বাড়ি ফিরেই আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়ারও কথা ছিলো। একবুক আশা ও আনন্দ নিয়ে প্রিয় সন্তান আর ভাইকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন মা নুরজাহানসহ পুরো পরিবার।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে শুধু বাড়িতে থাকার কারণে বেঁচে গেছেন হতভাগা পিতা শহিদুল ইসলাম। স্বজনদের হারিয়ে পাগলপ্রায় শহিদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন:
আরিফের মামা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আরিফ ১১ বছর বিদেশে ছিলো। সোমবার দিবাগত রাতে বিমান বন্দরে নেমেছিলো। সন্তানকে আনতে গিয়েছিলো মা নূরজাহান বেগম ও তার দুই সন্তান, নাতি-নাতনি। ফেরার পথে একই পরিবারের চারজন মারা গেছে। বাবা ছাড়া পরিবারে কেউ নেই। বাড়িতে কান্নার লোক নেই।’
আরেক মামা আবদুল কাদের বলেন, ‘১৮ বছর বয়সে বিদেশ গিয়েছিলো আরিফুল ইসলাম। অভাবের সংসার ছিলো। এখন তাদের সুখের সংসার। যখন সুখ ভোগ করবে, তখন পরিবারের চারজন চলে গেলো।’
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা ফায়ার স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংবাদ পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাইভেট কারের চালক ও যাত্রীদের উদ্ধার করি। এসময় প্রাইভেট কারের চালক প্রাইভেট কারসহ ট্রাকের পেছনে আটকে ছিলো। পরবর্তীতে প্রাইভেট কারটি কিছু অংশ কেটে চালককের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।





