ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৭ মাসে ঝরলো ৫০০ প্রাণ; ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রস্তুত পুলিশ

সড়ক দুর্ঘটনা
সড়ক দুর্ঘটনা | ছবি: এখন টিভি
0

দিনদিন প্রাণঘাতীর যাত্রায় পরিণত হয়ে উঠছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। ঈদের ছুটি কিংবা কর্মস্থলে ফেরা মানুষের আনন্দের মাত্রা পরিণত হচ্ছে বিষাদে। পুলিশের তথ্য বলছে, এ মহাসড়কের ২০৬ কিলোমিটার এলাকায় ১৭ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ শতাধিক মানুষ। এদিকে, দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে চার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। পুলিশ বলছে, আসন্ন ঈদুল আযহাকে ঘিরে মহাসড়কে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদযাত্রা দিন দিন প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ এর ২৩ মে পর্যন্ত দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রামের সিটি গেইট পর্যন্ত ২০৬ কিলোমিটার এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫০১জন। যদিও বেসরকারি হিসেবে এ প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি। শুধু চলতি বছরে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কুমিল্লা এলাকায় চারদিনে প্রাণ গেছে ৩২ জনের।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এসব সড়ক দুর্ঘটনা হয়ে থাকে বলে মনে করছেন তারা।

দুর্ঘটনার জন্য অনিয়ন্ত্রিত গতি, থ্রি-হুইলার ও ফিটনেসবিহীন যানের দৌরাত্ম্য এবং ত্রুটিপূর্ণ ইউটার্নসহ ১২ থেকে ১৩ টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে গত ১৭ মাসের সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগ কারণ ছিল অসচেতনতা। আসন্ন ঈদকে ঘিরে দুর্ঘটনা রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান, পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:

কুমিল্লা হাইওয়ে রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, ‘প্রত্যেকটা পয়েন্টে কিন্তু আমরা জনবল দিয়েছি, যেখানে আমরা নরমাল পিরিয়ডে দিতে পারি নাই আমাদের জনবলের ঘাটতির কারণে। এখন কিন্তু আমরা প্রত্যেকটা পয়েন্টে আপনি খেয়াল করে থাকবেন একজন-দুজন লোক আপনি পাবেন। আমরা আশা করি, আশাবাদী যে আমরা সড়কটাকে নিরাপদ রাখতে পারব।’

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জনের পরিবারকে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় সাড়ে চার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।

সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘বাস মালিকরা আনফিট বাস, ত্রুটিযুক্ত বাস রাস্তায় আনবেন না, এটা আমরা দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই দক্ষ, যোগ্য ড্রাইভারের হাতে আপনারা বাসটা তুলে দিয়েছেন। যেটা এখানে বলেছেন সেটা আমরা কার্যকরভাবে দেখতে চাই, আপনাদের সেক্টরে দেখতে চাই, জনগণের সামনে না।’

ঈদযাত্রা বা কর্মস্থলে ফেরা; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে থ্রিহুইলারের দৌরাত্ম্য, ত্রুটিপূর্ণ ইউটার্ন, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারকে দুর্ঘটনার বড় কারণ বলছেন যাত্রী ও চালক। তাদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা বাড়ালেই কমতে পারে প্রাণহানি।

এফএস