ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, ভাড়া নৈরাজ্য

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ | ছবি: এখন টিভি
0

ঈদযাত্রাকে ঘিরে কয়েক দিন যাবত ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় ধীর গতির সৃষ্টি হচ্ছে। পুরোদমে ঈদযাত্রা শুরু না হলেও মহাসড়কে বাসসহ গণপরিবহনের সংকট রয়েছে। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

যমুনা সেতুর দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে এ যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ৬৫৯টি যানবাহন পারাপারে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৯৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা।

মহাসড়ক ব্যবহারকারী বলছেন, চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৬ লেন, এছাড়াও টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ মহাসড়ক দুই লেনের যানবাহনগুলো যখন সাড়ে তিন লেনের যমুনা সেতুতে চলাচল করে, তখন অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত চার লেনের কাজ কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি। এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলমান থাকায় স্বাভাবিক সময়েও যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়াও দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায়, রাজধানীসহ গাজীপুর, সাভার থেকে ছেড়ে আসা ফিটনেসবিহীন নক্কর ঝক্কর বাস সড়কে দুর্ঘটনা কবলিত ও বিকল হওয়াসহ নানা কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তি হতে হবে।

সরেজমিনে, চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহনের চালকরা ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে আসতে পারে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এসে গতি কমে যায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারে। বর্তমানে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে থেমে থেমে এক থেকে দুই কিলোমিটারে যানজট তৈরি হচ্ছে। যানজট নিরসনের জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে।

বগুড়াগামী আবুল কাশেম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে দুই থেকে আড়াইশো টাকা ভাড়া নিলেও আজকে ৬০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। ঈদে আমার মতো ঘর মুখো মানুষের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নিজেদের ঈদ করতে কষ্ট হয়। ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

রংপুরগামী সজল মিয়া বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে রংপুর যেতে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা ভাড়া লাগে। আজকে সেই ভাড়া চাচ্ছে ১৩০০ টাকা।’

আলতাব পরিবহনের লুৎফর রহমান বলেন, ‘গত রোজার ঈদে চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত যেতে সময় লেগেছে ১৫ ঘণ্টার বেশি। এবার গরুর ট্রাক চলায় যানজটে আরও বেশি ভোগান্তি হতে পারে। এছাড়াও বৃষ্টিতেও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ হবে।’

যমুনা সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে উভয় পাশে আলাদা মোটরসাইকেলের লেনসহ ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোনো যানজট নেই।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান বলেন, ‘ঈদ যাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে আট জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’


এএইচ