গরুর আবাসিক হোটেল। অভিনব এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে যশোরের শার্শার সাতমাইলে। স্থানীয় ভাষায় গরুর এ থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাকে খাটাল বলে। মূলত যেসব গরু হাটে অবিক্রিত থেকে যায়, সেসব গরু খাটালে পরবর্তী হাটে বিক্রির জন্য রেখে যান। এসময়ে গরুর খড়, পানি খাওয়ানো, গোসল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকেন হোটেল মালিকরা।
গরুর হোটেল মালিক বলেন, ‘মানুষ যেভাবে আবাসিক হোটেলে থাকে, আবার এটা মনে করেন গরুর হোটেল। এখানে যারা মনে করেন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে, নিয়ে যাতে পারে না, তারা আমার এখানে গরুটা রেখে যায়। বড় গরুগুলো ২০০ টাকা করে পিস, মাঝারিগুলো ১৫০ টাকা, ছোট গরু ১০০ টাকা করে পিস।’
দূর-দূরান্ত থেকে আনা অবিক্রিত গরু ফেরত নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা ও পরিবহন খরচ কমাতে এই গরুর হোটেলগুলো এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।
আরও পড়ুন:
গরুর হাট কর্তৃপক্ষ জানান, শুধু গরু নয়, গরু মালিক বা ব্যবসায়ীদের নিরাপদে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও রেখেছেন তারা।
যশোর সাতমাইল পশুর হাটের ইজারাদার জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মানে গরুদের জন্য রাখার ঘর আছে। সেখানে তারা অল্প খরচে, সাশ্রয়ী মূল্যে গরু রাখতে পারে। সেখানে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। আমাদের এখানে ২০০ কর্মী থাকে। তারপর সিসি ক্যামেরা দ্বারা পুরো হাটটা নিয়ন্ত্রিত। যারা গরু আনবে এখানে আমাদের পশু ডাক্তার থাকে সার্বক্ষণিক।’
গরুর এই আবাসিক হোটেলকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন জেলা প্রাণী সম্পদের এই কর্মকর্তা।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এটা কিন্তু ব্যাপক সুবিধা করতে বলা চলে। অর্থাৎ, যখন কুরবানী ঈদ সামনে আসে, তখন সে সামনে রেখে গরু আনা নেয়া করা এটা একটু কষ্টকর হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে আপনি একদিন বা দুইদিন এনে একটু রেস্ট দিয়ে গরুটা বিক্রি করা, সেটা পশুর জন্য যেমন ভালো, তেমনি যারা ক্রেতা যারা কিনবেন তাদের জন্য ভালো।’
সাইমাইলে ৫টি বড় ও ছোটছোট আরও কয়েকটি গরুর আবাসিক হোটেল বা খাটাল গড়ে উঠেছে। সেখানে গড়ে অর্ধ সহস্রাধিক গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।




