সামান্য বৃষ্টিতেই কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় জলাবদ্ধতা: চরম ভোগান্তিতে নাগরিকরা

জলাবদ্ধতার চিত্র
জলাবদ্ধতার চিত্র | ছবি: এখন টিভি
0

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে চরম জলাবদ্ধতা। অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের চলাচল। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে বাজেট স্বল্পতায় নেয়া যাচ্ছে না কোন পদক্ষেপ।

সড়কের ওপর তেলাপিয়া মাছ—শিশুরা হাত বাড়িয়ে ধরছে তা। বৃষ্টি এলেই কিশোরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে প্রায়ই দেখা যায় এমন চিত্রের।

এক পশলা বৃষ্টি, আর তাতেই থমকে যায় পুরো শহর। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সবই ডুবে যায় পানিতে। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও আবর্জনায় থৈ থৈ রাস্তা। এমনকি খোদ সড়ক বিভাগের অফিস এলাকায় যাতায়াতের রাস্তাও ডুবে আছে পানির নিচে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। পানি ভেঙে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়।

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। স্কুলগামী ছাত্ররা অনেক অসুবিধার মধ্যে আছে। রাস্তাঘাটে যখন গাড়ি রিকশা না থাকে তখন চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। পৌরসভা থেকে যদি রাস্তাগুলো ঠিকঠাক করে দেয় যাতে পানি নেমে যায় এরকম করলে ভালো হয়।

আরও পড়ুন:

এদিকে নগরীর বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় কমে গেছে ক্রেতা, ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যা থাকলেও মিলছে না স্থায়ী সমাধান।

ব্যবসায়ী ও চালকরা জানান, সব রাস্তা বন্ধ, গাড়ি চালানো যায় না। হাঁটু সমান পানি। জলাবদ্ধতার সমস্যা পৌরসভাকে কনভেইন করা হয়েছে। ওরা অল্প একটু ড্রেন পরিষ্কার করে, কিন্তু বেশি বৃষ্টি হলেই এ দোকানগুলা তলিয়ে যায়।

আর বাজেট সংকটের কারণে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় সরকার পৌর প্রশাসক ও উপ-পরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, ‘আমাদের মূল কাজ হচ্ছে আমাদের যে ড্রেনগুলো আছে, মূল ড্রেনগুলো সেগুলো আপাতত আমরা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করছি এবং যেগুলো সংস্কার করার প্রয়োজন আছে সেগুলো সংস্কার করব। তবে সবচেয়ে বড় যেটা বিষয় হচ্ছে সেটা হচ্ছে আমাদের পৌরসভায় যে বরাদ্দ আসে অল্প পরিমাণ, সেই বরাদ্দ দিয়ে আসলে পুরো শহরের চাহিদাটা মেটানো যাচ্ছে না।’

আশ্বাস নয়, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে নেবে প্রশাসন-এমনটাই প্রত্যাশা কিশোরগঞ্জবাসীর।

ইএ