গতকাল (শনিবার, ২ মে) বরগুনার লতাকাটা খেয়াঘাটে ‘ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এসব কথা উঠে আসে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের গবেষক ও সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, দেশের মোট আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে মৎস্য খাত, যা জিডিপিতে ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ অবদান রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি ও বেহুন্দি জালের মতো বিধ্বংসী সরঞ্জামের ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে পোনা ও মা মাছ।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ডিম ছাড়ার মৌসুমে মা ইলিশের পথরোধকারী অবৈধ জালের বেষ্টনীকে।
আরও পড়ুন:
সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘এক সময় যারা নিজস্ব নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতেন, তারা আজ নিঃস্ব। নদীতে মাছ না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে আড়ৎদার ও ট্রলার মালিকদের অধীনে শ্রমিকের কাজ করছেন। উপকূলীয় এ প্রান্তিক মানুষগুলোর ওপর ট্রলার ও জালের মালিকদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে, যেখানে জেলেরা কেবলই সস্তা শ্রমে পরিণত হয়েছেন।’
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সভাপতিত্বে সংলাপে সংকটের সমাধানে ১০টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় জেলেদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, অবৈধ জাল প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, উপজেলা পর্যায়ে নদী ও মৎস্য রক্ষা কমিটি গঠন ও মা মাছ রক্ষায় জনসচেতনতামূলক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
সভাপতির বক্তব্যে নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও জনঅংশগ্রহণের অভাবে তা পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কেবল আইন নয়, বরং উপকূলীয় মানুষকে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, সাংবাদিক মুশফিক আরিফ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল জব্বার এবং জেলে সমিতির নেতারা। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, নদী ও ইলিশ রক্ষা না পেলে উপকূলের লাখ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।





