ভোলায় সুপেয় পানির সংকট, ৫০ হাজার টিউবওয়েল অকার্যকর

পানি সঙ্কটে ভোলার লাখো মানুষ
পানি সঙ্কটে ভোলার লাখো মানুষ | ছবি: এখন টিভি
0

জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে ভোলার চরফ্যাশনে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সুপেয় পানির সংকট। অকার্যকর হয়ে পড়ছে ৫০ হাজার টিউবওয়েল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর অবৈধভাবে সাবমারসিবল পাম্প দিয়ে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনে ভোলার চরফ্যাশনে দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। এতে একের পর এক অকেজো হয়ে পড়ছে গভীর নলকূপ ও টিউবওয়েল।

চরফ্যাশন উপজেলার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় সরকারি ১০ হাজার গভীর নলকূপের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি এরই মধ্যে অকেজো। অন্যদিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন লক্ষাধিক নলকূপের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি নলকূপে উঠছে না পানি। পানির এ সংকটে দুর্ভোগে উপজেলার প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার মানুষ।

পানির সংকটে পড়া পরিবারগুলোকে এখন দূর-দূরান্ত থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ব্যবহার করছেন তারা। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। পানি না থাকায় সুপেয় পানির অভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপনে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পরতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন:

ভোলা চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘পানি বাহিত যে সব রোগগুলো হয়; ডায়রিয়া, টাইফয়েড জ্বর, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন রোগের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।’

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপজেলার বিভিন্ন পৌরসভায় স্থাপন করেছে ১০০টির বেশি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাবমার্সিবল সেচ পাম্প। এসব পাম্প থেকে প্রতিদিন উত্তোলন করা হচ্ছে প্রায় ৮ লাখ ৬ হাজার লিটার পানি, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর।

এদিকে অবৈধ সাবমারসিবল পাম্প মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার এমদাদুল হোসেন বলেন, ‘কৃষি বিভাগ, বিআরডিসিও কৃষকদের নিয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

অবৈধ সেচ পাম্প নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে চরফ্যাশনে সুপেয় পানির সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেআর