হামের প্রকোপ বাড়ায় দূর দূরান্ত থেকে শিশুদের নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করছেন অভিভাবকরা। শিশু বিভাগে নিয়মিত ৪০ শয্যা থাকলেও আইসোলেশনসহ বিশেষ সেবার জন্য শয্যা বাড়ানো হয়েছে ১২০টি। তবে গড়ে এখানে রোগী ভর্তি থাকছে প্রায় ৩০০ জন। আইসোলেশন কক্ষ ছাপিয়ে রোগীরা অবস্থান নিয়েছেন বারান্দার মেঝেতেও। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সীট না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে থাকতে হচ্ছে বলে জানান রোগীর স্বজনরা।
এদিকে নগরীর নিকটস্থ বেলতলীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে শিশুদের জন্য ১০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালের কাজ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। জনবল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।
কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ শেষ হওয়ার পর পর যদি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা যেত তাহলে সব যন্ত্রাংশ দেয়া যেত।’
আরও পড়ুন:
কুমিল্লা ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারোয়ার আকবর বলেন, ‘হাসপাতালটি চালুর ব্যাপারে সব কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এমএন হুদা কন্সট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ‘দেড় বছর আগে হাসপাতালটির কাজ শেষ হয়েছে। সরকার চাইলে তখনি কাজ বুঝিয়ে নিতে পারতো। কিন্তু কী কারণে নেয় নায় তা সরকার ভালো জানে।’
চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে হামের মতো সংক্রামক রোগের জটিলতায় আক্রান্ত রোগীরা আরো উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা পেত।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালটি যদি সব সুযোগ সুবিধা দিয়ে চালু করা যায়। তাহলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্য সেবার মান আরও উন্নত হবে।’
২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। হস্তান্তর না হওয়ায় এখনও হাসপাতালের অবকাঠামো দেখভালের দায়িত্বে আছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।





