সংকটে বন্ধ রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ইউনিট

রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে
রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে | ছবি: এখন টিভি
2

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আর দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে আরেকটি দুঃসংবাদ দিয়েছে দেশের একমাত্র রাঙামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকটে দৈনিক ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রের ৫টি মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চারটি ইউনিট। মাত্র ১টি ইউনিট চালু রেখে উৎপাদন করা হচ্ছে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। হ্রদের পানির স্তর ৭০ ফুটের নিচে নেমে গেলে একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে উৎপাদন কার্যক্রম। অনাবৃষ্টি এবং প্রচণ্ড তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) বেলা ১২টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ ছিলো ৭৭ দশমিক ৪০ ফুট মীন সী লেভল (এম.এস.এল)। কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর পরিমাপ নির্দেশক রুল কার্ভ অনুযায়ী বর্তমানে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৩ ফুট (এম,এস,এল)। যেখানে পাঁচ দশমিক ছয় ফুট এমএসএল পানি কম রয়েছে। এতে এক, তিন, চার ও পাঁচ নম্বর ইউনিট বন্ধ করে দিয়ে মাত্র দুই নম্বর ইউনিট চালু রেখে ৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট (এমএসএল)। একটি ইউনিট চালু রাখায় এখন প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দশমিক এক আট থেকে দশমিক দুই ফুট পানি কমছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবং আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বড় বৃষ্টিপাত না হলে উৎপাদন আরও কমে যাবে। আর পানির স্তর ৭০ ফুট এম এস এলের নিচে নেমে গেলে ইউনিটের মেশিন চালানো যাবে না। এতে উৎপাদন একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এরআগে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল এযাবতকালের সর্বনিম্ন ২৫ মেগাওয়াটে নেমে গিয়েছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘পানির অভাবে কেন্দ্রের চারটি ইউনিট সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষার আগ পর্যন্ত এ সংকট হতে উত্তরণ সম্ভব নয়। বর্তমানে একটি ইউনিট সচল রেখে ৩৮ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দশমিক এক আট থেকে দশমিক দুই ফুট পানি কমছে। এ হারে পানি কমলেও শঙ্কায় আছি, যে মে মাসের শুরুতেই বড় বৃষ্টিপাত না হলে উৎপান আরও কমে যাবে।’

জেআর