সহিংসতা আর সংঘাতের পুরনো ছক ভেঙে এবার চট্টগ্রামে দেখা গেছে ভিন্ন এক নির্বাচনি আমেজ। ভোটারদের শান্তিপূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আর নির্বাচন উৎসব বদলে দিয়েছে চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠ। যেখানে ১৬ আসনের ১৪টিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে বিএনপি নিশ্চিত করেছে তাদের ভূমিধস বিজয়।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ১৬টি আসনে বিএনপি পেয়েছে ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬২০ ভোট। আর ১৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জামায়াত পেয়েছে ৯ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৭। বিএনপি জয়ী হওয়া আসনগুলোতে গড়ে ভোটের ব্যবধান ছিলো ৬৫ হাজারেরও বেশি। তবে সার্বিক বিচারে ২০০৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় অন্তত ৬ লাখ ভোট বেড়েছে জামায়াতের। আর জয় পাওয়া আসন বেড়েছে একটি।
নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বড় অঘটন চট্টগ্রাম-১৪ আসনে। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের কাছে ১ হাজার ২৬ ভোটে হেরেছে জামায়াত সমর্থিত এলডিপি প্রার্থী কর্নেল অলির ছেলে ওমর ফারুক। কর্নেল অলির ব্যক্তিগত প্রভাব আর জামায়াতের ভোট ব্যাংক মিলেও বিএনপিকে পরাস্ত করতে না পারা রাজনৈতিক বিবেচনায় বেশ বিস্ময়কর।
চট্টগ্রাম-১৪ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মিলেমিশে চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো।’
বিএনপি প্রার্থী প্রধান এজেন্ট আবুল হাশেম রাজু বলেন, ‘আমাদের বলেছেন জিয়াউর রহমানের মতো নেতা পৃথিবীতে নেই। খালেদা জিয়ার মতো আপসহীন নেত্রী এ পৃথিবীতে নেই, এ সমস্ত শিক্ষা দিয়ে ৫০ বছর পর বলছেন জামায়াত ইসলামের মতো দল হয় না।’
চন্দনাইশে যখন বিস্ময়কর জয়, তখন চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী জোবাইরুল আরিফের শোচনীয় পরাজয়ও ভোটের মাঠের টক অব দ্য টাউন। এনসিপির এই প্রার্থী মাত্র ৩ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে হারিয়েছেন তার জামানত। স্থানীয়রা বলছেন, জুলাই আন্দোলনের এ নেতা মাঠ পর্যায়ে ততটা সক্রিয় ও পরিচিত নন।
স্থানীয় ভোটারা জানান, জোবাইরুলকে সেখানে তেমন কেউ চিনতো না। তিনি হাসনাত, সারজিসের মতো কোনো ফিগার নয় বলে জানান তারা।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে জামায়াতের দোদুল্যমান বক্তব্য আর বিএনপির মধ্যপন্থা অবলম্বন চট্টগ্রামের ভোটের হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া তাছাড়া বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস, খালেদা জিয়ার প্রয়াণ ও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন- তাদের জয়ের পেছনের আবেগ হয়ে কাজ করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে বিএনপির কোনো অলটারনেটিভ দল নেই। জামায়াত এ পর্যায়ে আসতে পারেনি। তারা অনেক চেষ্টা করেছে। জামায়াত একবার বলেছে শরিয়াভিত্তিক হবে না, এভাবে বহু চেষ্টা করেছে। তবে আমার দৃষ্টিতে তারা বিএনপিকে ম্যাচ করতে পারেনি।’
অনেক ভোটারের মতে, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকা ও অপরিচিত প্রার্থী দেয়া, ১১ দলীয় জোটের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। বিপরীতে বিএনপির অনেক পরিচিত মুখ ও নতুনদের পারিবারিক রাজনৈতিক খ্যাতি, ভোট টানতে বড় ভূমিকা রেখেছে।





