নির্বাচনি প্রচার মাইক থেকে ভেসে আসা শব্দগুলো এখন উত্তরের উপজেলা শহর সৈয়দপুরের নিত্যদিনের ঘটনা। এখানকার বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র সবার নজর কাড়লেও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঘিরে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে প্রচার প্রচারণায়ও। আর তাই ভোটের বাতাসে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে হিন্দি আর উর্দুর মিশেলে ভোটার আকৃষ্টের চেষ্টা।
কেবল প্রচার মাইকের উচ্চ শব্দে নয়, বাংলার পরিবর্তে এখানে দেখা যায় প্রচারপত্রেও ভিন্ন ভাষার ব্যবহার। নীলফামারী-৪ আসনের অলিগলিতে নানা ঢংয়ে কখনো উর্দু, কখনো হিন্দিতে কিংবা নানা সুরের গজলে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। কিন্তু কেন?
এ আসনের নির্বাচনী আমেজ এলেই মাঠে সরগরম হয়ে উঠে অবাঙালি ভোটারদের আলোচনা। মোট ভোট কাস্টিং এ ঐক্যবদ্ধ ক্যাম্পে বসবাসরত বিহারি ভোটাররা হয়ে উঠে ফলাফল নির্ধারণের অন্যতম শক্তি। সাড়ে চার লাখ ভোটারের এ আসনে ষাট থেকে ৭৮ হাজারেরও বেশী অবাঙালি ভোটারদের ভোট নিজের দিকে টানতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
প্রার্থীদের একজন বলেন, ‘এ অঞ্চলে উর্দুভাষীরা আছে এ জন্য আমি এ ভাষায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছি।’
ব্রিটিশ শাসনামল থেকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত বাণিজ্য কিংবা চাকুরি সূত্রে সৈয়দপুরে বসবাসরত অবাঙালি জনগোষ্ঠীরা উপজেলার ছোটবড় ২২টি ক্যাম্পে বসবাস করছেন। নতুন প্রজন্ম বাংলায় বলা ও বোঝার দক্ষতা অর্জন করতে পারলেও বয়োবৃদ্ধদের কাছে উর্দু হিন্দি আর বিহারি ভাষাই এখন এখানে বহুল চর্চিত।
স্থানীয়রা জানান, এখানে অনেক অবাঙালিদের বসবাস। তারা বাংলা ভাষা বোঝে না। তাদের উদ্দেশ্য করেই মূলত এভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে এবার ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই করছেন। বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর সরকার ছাড়াও দুইজন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় একক প্রার্থী দিয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছে জামায়াতের হাফেজ আবদুল মুনতাকিম। তবে এই আসনে সদ্য সাবেক সাংসদ সিদ্দিকুল আলম ও বিএনপি জামাতের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে উত্তরের অন্যতম বাণিজ্যিক এই আসনে।
স্থানীয় বিহারীরা জানান, তাদের ভোট নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। তাদের ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়ন করা হয়ে না।
স্থানীয়ভাবে বিহারী হিসেবে পরিচিত মুক্তিযুদ্ধের সময় আটকে পড়া এ অবাঙালি ভোটাররা ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলেও তাদের জীবনমান নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আক্ষেপ। ক্যাম্পগুলোতে গাদাগাদি করে বসবাস ছড়াও রয়েছে অপরিচ্ছন্নতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের অভাব। ২০০৮ সালের মে মাসে হাইকোর্টের রায়ে সৈয়দপুরে আটকে পড়া উর্দুভাষী প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে স্বীকৃতি দেয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে। এরপর থেকেই এখানকার সব নির্বাচনে তারাই হয়ে ওঠেন ভোটের মাঠের তুরুপের তাস।




