‘পীরের নির্দেশে’ ভোটবিমুখ চাঁদপুরের নারী ভোটাররা; প্রশাসনের উদ্যোগে ভাঙছে মিথ

চাঁদপুর নারী ভোটার
চাঁদপুর নারী ভোটার | ছবি: এখন টিভি
0

‘পীরের নির্দেশে’ ভোটাধিকার থেকে বিরত থাকছেন চাঁদপুর–৪ আসনের একটি ইউনিয়নের নারী ভোটাররা। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্মে নিয়মিত ঘর থেকে বের হলেও স্থানীয় থেকে জাতীয়—সব ধরনের নির্বাচনে যুগের পর যুগ ‘ভোটবিমুখ’ এসব নারী। তাদের ভোটাধিকারে উদ্বুদ্ধ করতে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি কাজ করছে প্রশাসন। এরই ফলশ্রুতিতে দীর্ঘদিনের ‘মিথ ভেঙে’ অনেক নারী ভোট দেয়ার কথা জানালেও, এখনো অনেকেই রয়েছেন ধোঁয়াশায়।

গানের সুরে নারী ভোটারদের নিজ নিজ মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। শহর থেকে গ্রাম—দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এমন প্রচারণা। তবে কোনো এক পীরের নির্দেশে স্বাধীনতার পর থেকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন চাঁদপুর–৪ আসনের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা।

রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমান্দারি গ্রামের গৃহিণী পারভিন আক্তার। জন্মের পর থেকেই দেখে আসছেন নারীরা ভোটদান থেকে বিরত রয়েছেন। নিজেও কখনো ভোট দেননি। তবে আগামী নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে আগ্রহী।

পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমাদের হুজুর নিষেধ করেছেন, মহিলাদের কোনো ভোট নেই। কিন্তু ভোট দেয়া যেহেতু ‘‘ফরজ’’, তাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে।’

কথিত রয়েছে, একসময় মহামারি থেকে রক্ষা পেতে দোয়ার আয়োজন করা হয়। তখন মওদুদ হাসান জৈনপুরী নামের এক পীর নারীদের পর্দা মেনে চলার আদেশ দেন। তখন থেকে অনেক কিছু বদলালেও, বদলায়নি নারী ভোটদানের চিত্র।

নারী ভোটাররা জানান, জৈনপুরী হুজুর নিষেধ করেছেন বলেই তারা ভোট দেন না। তবে, পরিবারের অন্য সদস্যরা বললে এবার ভোট দিতে যেতে পারেন বলেও জানান তারা।

চাঁদপুর–৪ আসনে নারী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন প্রার্থীরা। নারীদের ঘরে না থেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।

চাঁদপুর–৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান বলেন, ‘যেহেতু হুজুর নিষেধ করেছেন, তাই এত বছর আমরা ভোট দিতে যাইনি। যারা আধুনিক মানুষ, তারা তো ভোট দিতে আসেন। আশা করি, এ বছর সবাই ভোট দিতে যাবেন।’

পীরের নামে গুজব ছড়িয়ে নারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন। এবার তাদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে প্রশাসনও।

ফরিদগঞ্জের গৃদকালন্দিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এ বছর নারীদের ভোট দেয়ার বিষয়ে বোঝানো হয়েছে। ভোট দেয়া ইসলামে নিষেধ নয়, আপনারা ভোট দিতে পারবেন।’

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে সেখানে ক্যাম্পিং করেছি। স্থানীয় লোকজন, বিশেষ করে মা-বোনদের নিয়ে কাজ করছি—যাতে করে তাদের বোঝানো যায় যে পর্দা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ভোটার ২১ হাজার ৬৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৩৯৬ জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ২৯৯ জন।

জেআর