চিত্রা নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা এক শহর নড়াইল। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে কোলকাতা থেকে খুলনা হয়ে নদী পথেই নড়াইলে আসতেন বণিকেরা। কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে হাট-বাজারসহ নানা স্থাপনা।
সময়ের ব্যবধানে জৌলুস হারিয়েছে চিত্রা। প্রশাসনের জরিপে দেখা যায়, নড়াইল শহর এলাকায় শতাধিক অবৈধ দখলদার ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু নদীপাড় দখল করে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এর সঙ্গে যুক্ত একশ্রেণীর সরকারি কর্মচারী। যারা খাস জমি দেখিয়ে জমি দখল করে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে। বিভিন্ন সময় নদীকে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় প্রধান অভিযুক্তরা।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘৪০ বছরে ট্রলার চালাচ্ছি। এ নদীর আগের যে যৌবন ছিলো, সেই যৌবনটা এখন নাই। আমি দেখেছি স্টিমার চলেছে, লঞ্চ চলেছে, সবকিছু চলেছে, স্রোতের আভা ছিলো বেশি।’
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও একই অভিযোগ করছেন। তারা বলছেন, প্রশাসনের দুষ্টচক্র ভেঙে অবৈধ দখলদারদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে দখল-দূষণ থেকে রক্ষা পাবে না চিত্রা। যদিও নতুন জরিপের পর চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের নড়াইল শাখার সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন তারাই এই নদীকে দখল করেছে বেশিরভাগই এবং দখল করে তারা বাড়ি-ঘর বানিয়েছে।’
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম বলেন, ‘আমরা ক্রমান্বয়ে আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। যদি কোনো অবৈধ স্থাপনা পাওয়া যায়, সেই তালিকা অনুযায়ী আমরা একে একে করে এগুলো উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছি।’
ঐতিহ্যবাহী চিত্রা নদীর সাথে সংযোগ রয়েছে অন্তত ২০টি খালের। নদীটি খনন করতে পারলে প্রতিটি খালে বাড়বে পানি প্রবাহ। উপকৃত হবে জনপদের ৫০ হাজার কৃষকসহ অন্তত ২ লক্ষাধিক মানুষ।





