আজ (মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার বাকি রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি জানান, নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের অপব্যবহার রোধ এবং অস্ত্রের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকা সিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে। এক এলাকার সন্ত্রাসীরা যেন অন্য এলাকায় গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বার্তা স্পষ্ট—স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা। মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে। প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে সচেতনতা দেখা যাচ্ছে এবং আন্তঃদলীয় সংঘাতের মাত্রাও তুলনামূলকভাবে কম, যা ইতিবাচক।’
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব। অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপতথ্য ছড়ানো যেমন অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
নির্বাচন নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের ইনকোয়ারি কমিটি ও কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তা জানানো যেতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এসময় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ নির্বাচন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





