বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের উপ-ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা পড়ায় নদীপথে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথে বর্তমানে ছয়টি ফেরি চলাচল করে। তবে ফেরিগুলোতে আধুনিক ফগ লাইট ও প্রয়োজনীয় নেভিগেশন সুবিধা না থাকায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণেই কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল স্থগিত রাখে।
আরও পড়ুন:
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদীর উভয় পাড়ে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়েছে। বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানসহ ছোট যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে করে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা।
নরসিংহপুর ও চাঁদপুর পাড়ের ফেরিঘাট এলাকায় দেখা গেছে, ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। নদীর মাঝখানে কয়েক মিটার দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো না। অনেক যানবাহনের চালক শীতের মধ্যে রাতভর ফেরিঘাট এলাকায় অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়াশা কেটে গেলে এবং নদীপথে দৃশ্যমানতা স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথটি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারও যাত্রী ও বিপুল পরিমাণ পণ্য এই রুট দিয়ে চলাচল করে। শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায়ই ফেরি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।





