ট্রাম্পের ক্ষমতার বাকি সময়, কংগ্রেস কার হাতে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |
0

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে প্রার্থী না হলেও তার প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নেবেন প্রায় ২১ কোটি ভোটার। রায় দেবেন, ট্রাম্পের ক্ষমতার বাকি সময় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কার হাতে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট নিয়ে গঠিত কংগ্রেস দেশটির আইন প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ভোট কীভাবে হবে, কোন আসনগুলো গুরুত্বপূর্ণ, আগাম ভোটে এগিয়ে কোন দল? এসব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ড ভেঙেছে। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা ইলেকশন ল্যাব এবং আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের তিন দিন আগে অর্থাৎ ১ নভেম্বর দেশটির রেকর্ড সংখ্যক ৫ কোটির বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন।

ইউএসএফ্যাক্টসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২১ কোটি ভোটারের ৪৪ শতাংশ নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে ৩৬ শতাংশ। অন্য প্রার্থীকে সমর্থন করছেন ৫ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়াও ব্লুমবার্গ ও বিভিন্ন বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আগাম ভোটে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে, যেখানে রিপাবলিকানরা পেয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ।

বর্তমানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের দুই কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রিপাবলিকানদের হাতে। যেকোনো একটির নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন আটকে দেয়ার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ক্ষমতা পাবেন। সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরের বিভিন্ন অর্থায়নসংক্রান্ত আইন প্রণয়নও কার্যত থমকে যাবে।

এরকম বেশ কিছু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময় অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। যার মাধ্যমে কংগ্রেসের দু'কক্ষের সদস্যসংখ্যা ও নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হয়।

আরও পড়ুন

এ নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের দু’বছরের শাসনকালের ওপর জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ বা মূল্যায়ন। দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি ও সরকারের সামগ্রিক কাজ নিয়ে সন্তোষ-অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভোটাররা।

কংগ্রেসের পাশাপাশি এ নির্বাচনে অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নর, স্থানীয় আইনপ্রণেতা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বা ব্যালট মেজার্স নিয়ে ভোট হয়। যা সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

এবার জেনে নেবো এ নির্বাচন যেভাবে হয়। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। ৪৩৫ সদস্য একটি করে নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের মেয়াদ দুই বছর, প্রতি দু’বছর পরপর নির্বাচন হয়। ২১৮ আসন পাওয়া দল প্রতিনিধি পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে রয়েছে ২১৪ আসন।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ হলো সিনেট। ৩৫ আসনের সদস্যসংখ্যা ১০০। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে দু’জন করে সিনেটর নির্বাচিত হন, মেয়াদ ছ’বছর। প্রতি দুই বছর পরপর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে ২২টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ১৩ আসন।

বলে রাখা ভালো, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটরা পূর্ণ ক্ষমতা পাবে-এমন নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস যেকোনো বিলে ভেটো দিতে পারেন। আর সেই ভেটো অকার্যকর করতে প্রয়োজন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন।

এ ছাড়া উচ্চকক্ষ সিনেটে অধিকাংশ বিলের বিতর্ক শেষ করতে ৬০টি ভোট প্রয়োজন হয়। ফলে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই কোনো দল সব নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

জেআর