যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ‘নীল ঢেউয়ের’ শঙ্কা ও রিপাবলিকানদের সংকট

ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নীল ঢেউয়ের প্রতীকী ছবি
ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নীল ঢেউয়ের প্রতীকী ছবি | ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
0

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখা নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতি, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে একটি বড় ধরনের ‘নীল ঢেউ’ বা জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান এবং রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য ভরাডুবির নানা কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

যেসব কারণে ক্ষুব্ধ ভোটাররা

আশি বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প গত গ্রীষ্মে ড্যালাসে রিপাবলিকান কনভেনশনে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘ধরে নিন ব্যালটে আমার নামই রয়েছে।’ ডেমোক্র্যাটরা তার এই বক্তব্যকেই মূল রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছে। ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর এক ধরনের জাতীয় গণভোটে পরিণত হয়েছে।

রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থনের হার নেমে এসেছে ৩২ শতাংশে, যা ৮০০ ট্রুম্যানের সময়ের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক চাপ ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

২০২৪ সালে মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও বর্তমানে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পর শুরু হওয়া আট মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

একই সঙ্গে জেফরি এস্টিনের নথি সম্পূর্ণ প্রকাশ না করা, গ্রামীণ অঞ্চলে ডেটা সেন্টার গড়ে ওঠা এবং হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং ভেঙে ৪০ কোটি ডলারের বলরুম নির্মাণসহ ট্রাম্প পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বৃদ্ধির কারণেও ভোটারদের ক্ষোভ বেড়েছে। ফর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ ২৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৬৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ক্ষুণ্ণ হয়েছে ল্যাটিনো ভোটারদের আস্থা

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল ল্যাটিনো ভোটারদের সমর্থন। তবে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্পের অভিবাসন সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টকে (আইসিই) দিয়ে চালানো ব্যাপক অভিযান এই জনগোষ্ঠীর ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে রিপাবলিকানরা নতুন ল্যাটিনো জোট গঠনের আশা করছিল, সেখানে বড় ধরনের ভোট হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কিছু আসন

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে (হাউসে ২১৮-২১৪ এবং সিনেটে ৫৩-৪৭)। রিপাবলিকানদের বাঁচাতে ধনকূপ ইলন মাস্কের বিভিন্ন সুপার প্যাক ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি খরচ করলেও কানসাস, আইওয়া ও টেক্সাসের মতো রক্ষণশীল ঘাঁটিতেও জরুরি তহবিল পাঠাতে হচ্ছে।

টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে শক্ত লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ৩৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো। মিশিগানে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আব্দুল এল-সায়েদ, যিনি প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার দৌড়ে আছেন। এছাড়া ওহাইও, মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতেও রিপাবলিকানরা তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে কী ঘটবে?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের এজেন্ডা থমকে যাবে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হাকিম জেফ্রিস প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হলে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক দুর্নীতি, ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং ট্রাম্প পরিবারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ব্যাপক তদন্তের হুমকি দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফল যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্প এখন কার্যত একজন প্রভাবহীন বা ‘লেম ডাক’ প্রেসিডেন্টে পরিণত হতে যাচ্ছেন।

এএম