যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজের মার-আ-লাগো এস্টেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও পারমাণবিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন কেবল কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বাকি রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনো এক বা দুটি স্থাপনার ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সেটি আমরা ১০ মিনিটেই করতে পারি। আমাদের সেই পরিকল্পনা আছে।’
ইরানের সন্দেহভাজন একটি পারমাণবিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের দিকে নজর দিতে পারেন, সেটির ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা সবকিছু খুব দ্রুত করতে পারি।’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার কোনো সময়সীমা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো তাড়া নেই। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ও পারমাণবিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহেই ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে কি না, জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এমন বোকার মতো প্রশ্ন কেন করছেন?’ এরপর যোগ করেন, ‘আমি বলতে পারব না।’
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হবে না। তারা চুক্তি করতে চায়; দেখা যাক কী হয়।’
আলোচনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা এগোচ্ছে। তবে তেহরানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আলোচনা ভালোই চলছে, কিন্তু তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। তারা চুক্তি করে, তারপর সরে যায়। তারা চুক্তি করতে চায়। দেখা যাক, তারা চুক্তি করে কি না।’
শুক্রবার তেহরানে আলোচনার পর শনিবার দোহায় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি আলোচকরা। এর পরপরই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। তখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।





