তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যারেড কুশনার। অভিযোগগুলোকে চরম আপত্তিকর ও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে এসব চরম মনগড়া গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এটি কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি মূলত কল্পনা, রূপকথা ও অপপ্রচারের সংমিশ্রণ; যা গভীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছে।’
সাংবাদিক ও লেখক ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট-এর বরাতে ভ্যানিটি ফেয়ার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় কুশনারের আইফোনে গোপনে নজরদারি চালায় ডাচ গোয়েন্দারা। সে সময় তারা দেখতে পান, কুশনার সংযুক্ত আরব আমিরাত–সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ জমা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত দাতব্য সংস্থা ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশনের নামে ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়। কুশনার ওই অ্যাকাউন্টের মালিক না হলেও সেখানে তার স্বাক্ষর করার এবং অর্থ ব্যবহারের সুযোগ ছিল। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভাই তাহনুন বিন জায়েদ এই অ্যাকাউন্ট তদারকি করতেন।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে একটি বিশেষ গোপন তহবিল তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও এই দুই আরব নেতা কুশনারের জন্য দুটি অ্যাকাউন্টে অন্তত ২০০ কোটি ডলার রাখেন।
এর বাইরে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আরও ১০০ কোটি ডলার স্থানান্তরের আরেকটি অ্যাকাউন্টের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ওই অর্থ ইসরাইলে জমা রাখার পরামর্শ দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগ করেছিলেন কুশনার।
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি। উল্লেখিত লেনদেনের ঘটনাগুলো ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়কার। ৪৫ বছর বয়সী কুশনার বর্তমানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অনানুষ্ঠানিক দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পের স্বামী।
অভিযোগের জবাবে কুশনার আরও বলেন, এসব দাবি একেবারেই অবাস্তব এবং এমন কোনো ঘটনাই কখনো ঘটেনি। কোনো ব্যাংক বিবরণী, অর্থ স্থানান্তরের নথি বা সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি অত্যন্ত নিবিড় নজরদারির মধ্যে ছিলেন এবং বিভিন্ন তদন্তে স্বেচ্ছায় ৩০ ঘণ্টার বেশি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তখন এ ধরনের কোনো তথ্য কখনোই সামনে আসেনি।
কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বাস্তবে এ ধরনের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কোনো অস্তিত্বই নেই। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই মানহানিকর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মিজেল জানান, তাদের সব পথই খোলা রয়েছে।





