ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা: ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তায় নজর দেয়ার আহ্বান পুতিনের

মস্কোতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদদাতা পাভেল জারুবিনকে সাক্ষাৎকার দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
মস্কোতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদদাতা পাভেল জারুবিনকে সাক্ষাৎকার দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: রয়টার্স
0

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের ভবিষ্যৎ আলোচনায় উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোটা ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জোর দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতিন জানান, আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে।

ক্রেমলিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন বলেন, রাশিয়া কখনই যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি, কিন্তু মস্কোর উদ্বেগের মূল বিষয়গুলোতে ইউক্রেনের বৈরী আচরণের মুখে পড়েছিল তারা। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মস্কো কোনো স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের দীর্ঘস্থায়ী অবসান চায়।

পুতিন বলেন, ‘শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পর ইউক্রেন ও রাশিয়ার চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে এই আলোচনার লক্ষ্য, স্বল্প সময়ের জন্য কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে তা নয়। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা পুনরায় যোগাযোগ শুরু করতে প্রস্তুত।’

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, উইটকফও জোর দিয়ে বলেছেন যে আলোচনায় গোটা ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পুতিন বলেন, ‘আমিও এর সঙ্গে একমত। দেখা যাক আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়।’

এদিকে গত মঙ্গলবার নরওয়েতে উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আগামী মাসের শুরুর দিকে সম্ভাব্য আলোচনায় বসতে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন ‘যুদ্ধবিরতি, যুদ্ধ অবসান, জ্বালানি যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক উদ্যোগের যেকোনো প্রস্তাবকে’ সমর্থন করে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর ওয়াশিংটনের নেতৃত্বাধীন এই শান্তি উদ্যোগ থমকে গিয়েছিল।

ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধের মূল বিষয়গুলোর কেন্দ্রে রয়েছে ভূখণ্ড সংক্রান্ত দাবি। রাশিয়ার দাবি, পূর্ব ইউক্রেনের পুরো দনবাস অঞ্চল মস্কোকে ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে কিয়েভ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড বিষয়ে পুতিন বলেন, ওই অঞ্চলটি যে ‘ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার ভূখণ্ড’, যেকোনো আলোচনায় সেই সত্য বিবেচনায় নিতে হবে। তার দাবি, ইউক্রেনে মস্কোর সামরিক অভিযান শুরুর সাত মাস পর অনুষ্ঠিত গণভোটে সেখানকার বাসিন্দারা রাশিয়ার অংশ হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

পুতিন বলেন, ‘প্রথমত, এই বিষয়ে আমার মনোভাব হলো এটি তাদের ভূখণ্ড নয়। এটি ঐতিহাসিক রাশিয়ার ভূখণ্ড।’

এএম