ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে (এফটি) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের সংযম দেখানোর দিন শেষ।’ তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিজেল চুক্তি করার পর কিয়েভকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রুশ হামলার আগাম গোয়েন্দা তথ্য দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয় বাহিনীর যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবা ধীরগতির করে দেয়াও একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছিল।
জেলেনস্কির এই ঘোষণার পরপরই মস্কোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রিয়াজান এলাকার একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেন বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ডজনখানেক ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে, তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ে শোধনাগারটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন সিদ্ধান্তের কারণে নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সায় দেন জেলেনস্কি। এফটি-কে তিনি জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে হামলা না থামালে গোয়েন্দা তথ্য ব্লক করা হবে। ইলন মাস্কের স্টারলিংক সংযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল না, এটি ছিল তাদের ইচ্ছে।’ তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তাদের সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড সেবা পুনরায় চালু হয়েছে। ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে এবং যেকোনো বিধিনিষেধ তাদেরই সিদ্ধান্ত।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের আরও পেট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে, তবেই কেবল তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ রাখবে। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান পড়েছে।
লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব কথা বলেন জেলেনস্কি। বৈঠকে ব্রিটেন ইউক্রেনকে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের ঝোঁক রয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের মতো স্বৈরাচারী নেতাদের দিকে। মার্কিন নির্বাচনের আগে তেলের দাম কমাতে রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির যে চুক্তি ট্রাম্প করেছেন, তাকে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নে মার্কিন বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।





