সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হামলাকারী পাইলটের সঙ্গে তেহরানের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন কাজ করছে। এ ঘটনার পেছনে ইরান থাকলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে, এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনারা তাদেরই জিজ্ঞাসা করুন। তারা জানে কী ঘটেছে।’
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্য এল। টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের পর ইরানে আবার বোমাবর্ষণ শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজে করে নতুন করে প্রায় ৯ হাজার সেনা পাঠিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বার্তা সংস্থা এপিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এর ফলে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অবস্থান নিতে পারে। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা ও সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ১৮২ জন আরোহী নিয়ে ইসরাইলের তেল আবিব যাওয়ার পথে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজে এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে। যাত্রীদের বড় অংশই ছিলেন ইসরাইলি নাগরিক। উড়োজাহাজের ওমানি সহ-পাইলট হঠাৎ ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামাতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থাতেই ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীরা ভেতরে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন। পরে জরুরি ভিত্তিতে উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে আবুধাবিতে চিকিৎসাধীন আছেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুরো ঘটনা তদন্তে আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান কাজ করছে। আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নাকি মানসিক সমস্যার কারণে ঘটেছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলাকারীকে চরমপন্থায় দীক্ষিত করা হয়েছিল। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাইলও অংশ নেবে বলে দাবি করেছেন।





