ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল; মণপ্রতি দাম ছাড়ালো লাখ টাকা

বরিশালের বাজারে চাহিদার তুলনায় কম ইলিশ উঠেছে
বরিশালের বাজারে চাহিদার তুলনায় কম ইলিশ উঠেছে | ছবি: এখন টিভি
0

বরিশালের নদ-নদী ও মোকামে ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। মণপ্রতি ইলিশের দর লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, নাগালের বাইরে ইলিশের দাম। আর বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম তাই বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। উৎপাদন কমার পেছনে নদীতে ডুবোচর, নাব্যতা হ্রাসকে কারণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও বরিশালের সবচেয়ে বড় ইলিশ মোকামে নেই চিরচেনা হাঁকডাক। যেখানে একসময় ঝুড়ি ভর্তি রূপালী ইলিশ থাকার কথা, সেখানে দেখা মিলছে হাতে গোনা কয়েক ঝুড়ির।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও সরবরাহ বেশ কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে যেখানে মৌসুমে প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার মন ইলিশ পাওয়া যেত, সেখানে এখন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মন ইলিশ আসছে। ফলে কোটি টাকার বেশি লেনদেনের স্থলে দিনে তা নেমে এসেছে লাখের ঘরে।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার পোর্ট রোডে লেনদেন হইছে। এখন লাখের কাছাকাছিও হয় না। কেন হয় না? মাছ নাই, দাম বেশি।’

অন্য একজন বলেন, ‘কেজির মাছ ঐটা ৯০০, ১০০০, ১২০০ করে কিনতে পারতাম। ওই মাছটা এখন ২৭০০, ২৮০০, ৩০০০ টাকা কেজি। তাইলে এইডা গরীব মানুষে কীভাবে এই মাছটা কিনে খাবে কন?’

আরও পড়ুন:

ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্য একজন বলেন, ‘মৌসুমে মাছের চাপটা একটু বেশি থাকার কথা। কিন্তু যার কারণ মানে এখন বর্তমানে চাপ খুব কম। যার কারণে দাম এখনও বেশি।’

দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রূপালী ইলিশ। এতে ইলিশ খাওয়া থেকে বঞ্চিতদের পাশাপাশি দাম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ ক্রেতাদের।

ক্রেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘জাটকার ছোটটা কিনতাম ৫০০ হইতে ৬০০ টাকা। এখন চায় ১৬০০ টাকা কেজি।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমাগো গরীবের লাইগা বড়টা না, আমাগো লাইগা ছোটটা।’

আরও পড়ুন:

মৎস্য বিভাগ বলছে, গত চার বছর যাবত ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। নদীতে পানি ও স্রোতের অভাব, ডুবোচর সৃষ্টি, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। যার কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে মনে করেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

বরিশালের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘কারেন্ট জাল তারপরে আরও বেহেন্দি জাল যেগুলোর ফাঁস খুবই ছোট, এগুলো ইলিশের ছোট মাছকে তো নষ্ট করেই অন্যান্য মাছও নষ্ট করে। সমাধান সম্ভবত ওই ডুবোচরগুলো যদি আমরা খনন করতে পারি, তাহলে এটা হয়তো একটা রাস্তা ক্লিয়ার হলে তখন ইলিশ আবার নিজের থেকে ঢুকবে।’

বর্তমানে বরিশালের বাজারে দেড় কেজি ওজনের ইলিশের প্রতি মন দেড় লাখ টাকা, ১২০০ গ্রাম ওজন সোয়া লাখ আর এক কেজি ইলিশের মন এক লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে এক হাজার ৮০০ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা কেজিতে।

এসএস