পদ্মায় ইলিশের সংকট: বিপাকে মানিকগঞ্জের জেলে পরিবার

ইলিশ ধরার চেষ্টায় জেলেরা
ইলিশ ধরার চেষ্টায় জেলেরা | ছবি: এখন টিভি
0

পদ্মা ও যমুনা নদীবেষ্টিত মানিকগঞ্জের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাছ ধরা। তবে পদ্মায় ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলেরা। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত পাঁচ অর্থবছরে জেলায় পদ্মায় ইলিশ আহরণ কমেছে ৪৬ শতাংশের বেশি। নাব্য সংকট, পানির প্রবাহের পরিবর্তন ও দূষণসহ নানা কারণেই ইলিশ কমছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

জাল ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এতে বাড়ছে নৌকার জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচ। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মানিকগঞ্জের লোয়ার পদ্মায় ইলিশ আহরণ হয়েছিল এক হাজার ১৫৯ মেট্রিক টন। যা কমতে কমতে গত ২৪-২৫ অর্থবছরে গিয়ে ঠেকেছে ৬২২ মেট্রিক টনে।

হরিরামপুরের আন্ধারমানিক এলাকার অভিজ্ঞ জেলেরা ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলছেন, নদীতে গভীরতা নেই, চর পড়েছে, কোথাও জমেছে বালু। দূষণ, প্রজননের অনুকূল পরিবেশের অভাব ও অতিরিক্ত বাল্কহেড ও নৌযান চলাচলে মাছ ধরার পরিবেশ বদলে গেছে।

জেলেদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আগে ভরপুর ইলিশ মাছ আছিল। আমরা জাল হালাইলে পরে রোজ ৫ হাজার ১০ হাজার ইনকাম করতাম ইলিশ মাছ মাইরা। আর এহন দিন ভইরা ৫০০ টাকার মাছও পাই না। ইলিশের কারণ অই একটা। পানি দূষিত আছে, গভীরতা কম, তারপরে বড় বড় স্টিমার যায়, জাহাজ যায়। সরকারের কাছে বিনীতভাবে আবেদন করতেছি যে, আমাদেরকে এই অভিযানের সময়টাতে যেন আরও ভালোভাবে দেখভাল করা হয়।’

আরও পড়ুন:

ইলিশ সংরক্ষণে গত অর্থবছরে ১২ হাজার ৭৮৬ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। ৫৫৭টি অভিযান ও ৯৮টি মোবাইল কোর্ট চললেও অবৈধ মাছ শিকারের পাশাপাশি সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত ইলিশ আহরণও নদীতে ইলিশের প্রাপ্ততা কমার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন কর্মকর্তারা।

মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্টক যেটা আছে, এটাকে অ্যাসেসমেন্ট করা খুবই জরুরি। কারণ আমরা যদি স্টকের ওভার এক্সপ্লয়টেশন করে ফেলি, তাহলে দেখা যাবে যে আমাদের মূল স্টকটা কমে যাচ্ছে। আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্পনিং হবে না, মাদার পাবো না। ইলিশের উৎপাদনের ওপর সেটা একটা প্রভাব বিস্তার করবে।’

ইলিশের প্রাপ্ততা কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন জেলেরা। ইলিশ কমার সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে আরও গবেষণা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএস