স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ফুলগাজীতে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফেনীর ফুলগাজীতে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আজকে স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার এক হয়েছে। তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

আজ (বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কথা রেখেছি। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, কৃষক কার্ড দেবো, ফ্যামিলি কার্ড দেবো। ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী দেবো। আমরা যদি এসব কাজ সফলভাবে করতে পারি, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কাজ শুরু করেছিলেন, যাতে মানুষ উপকৃত হয়। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা বন্ধ কলকারখানাগুলো নতুন করে চালু করতে চাই। এতে মানুষ উপকৃত হবে।’

দেশে অরাজকতা তৈরি হলে জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেয়াল করে দেখবেন, আমরা জনকল্যাণমুখী কাজগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে চাই।’

যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে এবং যারা ‘এক দফা’ দফা করছে তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাদের কি খাল কাটা কর্মসূচি আছে? তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? কৃষক কার্ড কর্মসূচি আছে? মানুষের জন্য তাদের রাজনীতি কই?’

আরও পড়ুন:

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি দল নির্বাচনের আগে বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলতো। যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা তারা কী করে দেবে? তাদের মুনাফেকি প্রকাশ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর গুপ্ত বাহিনী বলেছিলো, তারা যদি ফিরে আসে অসুবিধা নেই। বলবেই তো, তারা তো স্বৈরাচারের সঙ্গেই রাজনীতি করতো।’

এর আগে, ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা-ভোগান্তি কমাতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ দিনের কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড, ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী ভাতা দেয়া হয়। পরে গুরুতর অসহায় ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও সহায়তার চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, কৃষিমন্ত্রী আমীনুর রশিদ, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু।

এসএইচ