রাশিয়ায় তিন দিনব্যাপী স্টেট দুমা (পার্লামেন্ট) নির্বাচন চলাকালে ক্রেমলিন সার্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল বলে প্রচার করছে। তবে বাস্তবে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ২০২৩-২৪ সালে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের ওপরে থাকলেও চলতি বছর তা কমে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে নামবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে, যা প্রাক্কলিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। ঘাটতি মেটাতে রিজার্ভ ফান্ড খালি হয়ে আসায় মস্কোকে এখন ১৭ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ সুদে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকায় রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় আবার বেড়েছে। মে মাসের আগে তেলের আয় মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামলেও জুনে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন এবং জুলাইয়ে ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কারখানাগুলোতে দিনরাত কাজ চলা ও দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে বিপুল সামরিক ভাতা পৌঁছানোর ফলে দেশে বেকারত্বের হার নেমে এসেছে মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশে। এই দুই নিয়ামক আপাতত সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক অসন্তোষ চেপে রাখতে সাহায্য করছে।
কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, লাখ লাখ তরুণ দেশ ছাড়ায় দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি এবং প্রতিরক্ষা খাতের চাপে বেসামরিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্টকহোম স্কুল অব ইকোনমিক্সের গবেষক তোরবিয়র্ন বেকার বলেন, জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকা পর্যন্ত হয়তো এই চাপ টের পাওয়া যাবে না, তবে বর্তমান পথ ধরে হেঁটে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মাসের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।’ তবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত উন্নয়ন ব্যাংক ভিইবি.আরএফ-এর সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আন্দ্রেই ক্লেপাচ সম্প্রতি এক ভাষণে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ছি। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে জেতা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’ এই বক্তব্য দেওয়ার পরই তাকে পদচ্যুত করা হয়।





