ছাল উঠে যাওয়া কংক্রিটের খুঁটি, মরিচা ধরা টিনের চালে বড় বড় ছিদ্র, একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে ভিজে যায় আসবাবপত্র। বরগুনার পোটকাখালী আবাসন প্রকল্পের গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন এখন এমনই এক কষ্টের গল্প।
কোটি কোটি টাকা খরচে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হলেও বছরের পর বছর সংস্কার না করায় এটি এখন বসবাসের অনুপযোগী। ১২০টি পরিবারের মাথা গোঁজার স্বপ্ন নিয়ে তৈরি পোটকাখালী আবাসনটিতে এখন শুধুই জরাজীর্ণতার ছাপ। মেরামতের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ভাঙা ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আবার বাধ্য হয়ে আশ্রয় ছেড়েছেন অনেকেই।
বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ঘরের দিয়া পানি দিয়ে ভরে যায়, থাকতে পারি না। পানি এছা লাগে এক কূল দিয়া, তারপর রানতে পারি নে, গুরুগ্যারা লইয়া না খাইয়াও দুইদিন তিনদিন থাকা লাগে।’
অন্য একজন বলেন, ‘রাস্তাঘাট নাই, কিচ্ছু না, বাড়িঘর তো হর ভাঙাচোরা, থাকতে কষ্ট হয়। টয়লেট নাই, বুড়া মানুষ কামকাইজ করতে পারি নে, আমি ভিক্ষা-শিক্ষা করি।’
ভাঙা ঘরের চেয়েও এখানকার বাসিন্দাদের বড় দুর্ভোগ সুপেয় পানি। ১২০টি পরিবারের জন্য ছয়টি গভীর নলকূপের সবগুলোই এখন অকেজো। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে পানির এই একমাত্র মাধ্যমটি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় একজন বলেন, ‘রোগবালাই অনেক অসুস্থ মানুষ, হাসপাতাল দৈনিকই কমবেশি দুই-একটা যাইতেই আছে। এই দুই-এক বছর আগে আরও দুইডা মারা গেছে, এ বছরও একটা বাচ্চা মারা গেছে ডায়রিয়ায়।’
খাবার পানির জন্য বাসিন্দাদের ছুটতে হয় পাশের গ্রামে, সেখানেও পোহাতে হয় নানা হয়রানি। সুপেয় পানির তীব্র সংকটে এরইমধ্যে এই আবাসনে ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগ।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বরাদ্দ সংকটের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে এখনই মেরামত সম্ভব নয়, কিন্তু সুপেয় পানির ব্যবস্থার আশ্বাস তার।
বরগুনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, ‘ডিপিএইচই-কে আমি এরইমধ্যে টেলিফোনে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছি, তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করবে এবং নষ্ট টিউবওয়েল সারানোর উদ্যোগ নেবে। আর যদি প্রয়োজন হয় বা প্রয়োজনীয়তা থাকে ওখানে নতুন কোনো টিউবওয়েল দেয়ার, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শুধু পোটকাখালীই নয়, জেলার অধিকাংশ আশ্রয়ণ প্রকল্পের চিত্র একইরকম। যে আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল নিশ্চিত জীবনের, তা এখন পরিণত হয়েছে চরম অনিশ্চয়তায়। দ্রুত সংস্কার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে এই সহায়-সম্বলহীন মানুষদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।




