প্রকল্পে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারে জোর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অননুমোদিত ও নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্প পর্যালোচনা সভা
অননুমোদিত ও নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্প পর্যালোচনা সভা | ছবি: বাসস
0

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় করাই মূল লক্ষ্য হতে পারে না। প্রতিটি প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর ফল নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্তির জন্য বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের চলমান, অননুমোদিত ও নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্প পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সরকার নতুন করে শিল্পকারখানায় সরাসরি বিনিয়োগ করে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পথে যাচ্ছে না। শিল্প পরিচালনা ও বিনিয়োগে বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে। তবে প্রয়োজন ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে সরকার অংশীদার বা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত হতে পারে।’

সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়, ব্যয় ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, ‘প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দ ও ব্যয়ের পরিমাণ নয়, প্রত্যাশিত ফলাফল, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা, পুরোনো কারখানার সংস্কার, বেসরকারি অংশীদারত্বের সুযোগ এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

পরে বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ‘দেশের বস্ত্র ও পাট খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগ দিতে হবে। ঐতিহ্যবাহী শিল্পের স্বকীয়তা ধরে রেখে আধুনিক শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে এর সমন্বয় ঘটাতে হবে।’

সভায় তাঁতশিল্পের উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেয়া হয়। তাঁতিদের সহজ শর্তে অর্থায়ন, বাজার সম্প্রসারণ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে তাদের উৎপাদন ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়।

টাঙ্গাইল শাড়ি ও মসলিনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রকল্প গ্রহণ নিয়েও বিশেষভাবে আলোচনা হয়। টাঙ্গাইল শাড়ির দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং মসলিনের সংরক্ষণ, গবেষণা, উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।—বাসস

এসএইচ