অপহরণের নাটক সাজিয়ে চার বছর আত্মগোপনে, অতঃপর...

গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে আসামি
গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে আসামি | ছবি: এখন টিভি
0

অপহরণ মামলায় অন্যদের ফাঁসানোর উদ্দেশে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগে আব্দুল মান্নান প্যাঁদা (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল (বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাদারীপুরের কালকিনি থানা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী থানাধীন তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান প্যাঁদা নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে প্রথমে পটুয়াখালী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার ছেলে মো. জসিম প্যাঁদা আদালতে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩৬৫ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এরপর পটুয়াখালী জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মান্নান প্যাঁদার অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মান্নান প্যাঁদা জানান, ২০২০ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন তিনি। সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজে যুক্ত দুটি কোম্পানির শ্রমিকরা মাসিক ভিত্তিতে খাবার খেতেন। মাস শেষে কোম্পানির মালিকরা খাবারের বিল পরিশোধ করতেন।

পুলিশ আরও জানায়, মান্নান প্যাঁদার দাবি অনুযায়ী, একটি কোম্পানির কাছে তার প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং অন্য একটি কোম্পানির কাছে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। আত্মগোপনে যাওয়ার আগের দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম কোম্পানির মালিকের বাসায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি ৪ লাখ টাকা দেন।

এরপর হোটেলের ম্যানেজার নুর আলম তাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন মান্নান প্যাঁদা। ম্যানেজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করবেন এবং ফোনে যোগাযোগ রাখবেন বলেও তাকে জানানো হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ম্যানেজারের প্ররোচনায় মান্নান প্যাঁদা অপহরণের নাটক সাজান। প্রথমে নিখোঁজের জিডি এবং পরে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করা হয়। এরপর ২০২২ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে মান্নান প্যাঁদা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া মান্নান প্যাঁদাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত বা সহযোগিতা করেছে, তা শনাক্তে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এসএইচ