নোবিপ্রবির অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছবি, দুই শিক্ষককে শোকজ

শোকজ করা দুই শিক্ষক
শোকজ করা দুই শিক্ষক | ছবি: সংগৃহীত
0

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত চলাকালে ডিজিটাল স্ক্রিনে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ (বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় অডিটোরিয়ামের ডিজিটাল স্ক্রিনে হঠাৎ শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত ছবিটি সরিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে স্ক্রিনে প্রদর্শনের আগে ভিডিওটি যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

ঘটনার বিষয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয় এবং শিক্ষকরা তা তদারকি করেন। এবারের অনুষ্ঠানেও একজন শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠান ও ব্যানার দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থী ইউটিউব থেকে জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও সংগ্রহ করেন।’

তিনি বলেন, ‘ভিডিওটির শেষের দিকে প্রায় ১০ সেকেন্ড এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী বিষয়টি খেয়াল করেনি।’ এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল উল্লেখ করে প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার্থী জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ভিউ দেখে ভিডিওটি নির্বাচন করেছিল এবং ভিডিওতে এমন কিছু থাকবে বলে সে ভাবেনি।’

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ‘অনুষ্ঠানের শুরুতে র‍্যালি এবং পরে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। সাধারণত জাতীয় সংগীত দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়। আগে অডিওতে জাতীয় সংগীত বাজানো হলেও এবার ডিজিটাল বোর্ডে ভিডিও চালানো হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীরা ইউটিউব থেকে জাতীয় সংগীতের একটি ভিডিও চালায়। ভিডিওতে এ ধরনের কিছু থাকবে, তারা তা ভাবেনি।’

সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা সুলতানা আরও বলেন, ‘কেউই ওই ছবি প্রদর্শন করতে চাননি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং এ ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।’

এদিকে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়কের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত ছিল। ঘটনাটি নিছক অসতর্কতা, নাকি এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জাতীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় এ ধরনের ঘটনার যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় বিভাগের চেয়ারম্যান ও অনুষ্ঠানের আহ্বায়ককে শোকজ করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’

এএম