সম্প্রতি কুংফু , নাচ ও বক্সিং দেখিয়ে, ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে চীনা হিউম্যানয়েড রোবট। টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবটগুলোর এ ধরনের শারীরিক কসরতের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক মুনাফা নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা তুলে ধরা।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভিন্ন কথা। যেখানে চীনের বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের কারখানায় আধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট অত্যন্ত সূক্ষ্ম, এবং জটিল কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করছে, সেখানে এসব শিল্প কারখানায় মূলধারার উৎপাদন কাজে ব্যর্থ লড়াকু এসব হিউম্যানয়েড রোবট।
সম্প্রতি, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ চীনের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে শতাধিক হিউম্যানয়েড রোবটকে বাক্স গোছানো, নুডলস প্যাকেট করা, কফি বানানোর মত কাজ শেখাতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে প্রায় প্রশিক্ষকদের। এরপর থেকেই এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বর্তমানে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করা হিউম্যানয়েড রোবটের ৯৭ শতাংশেরও বেশি তৈরি করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। জানা গেছে, চীনের শীর্ষ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বাড়লেও সমন্বিত মুনাফা প্রায় ৫৩ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, প্রতিটি রোবট তৈরিতে যে খরচ হচ্ছে, বিক্রির পর সে অনুপাতে লাভ থাকছে না।
রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজার দখলের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীন। বাজারে এর বাণিজ্যিক চাহিদা এখনো তৈরি না হলেও লোকসান দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে চীনা সরকার।
রয়টার্সের দাবি, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েই এ খাত টিকিয়ে রাখছে চীন। একই অর্থনৈতিক কৌশল কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেলের বাজারও দখল করেছে দেশটি।
বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে চীন মূলত প্রাথমিক পর্যায়ে লাভের তোয়াক্কা না করেই সস্তা রোবটে বাজার সয়লাব করে দিচ্ছে। নিজস্ব শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে প্রতিযোগীদের টেক্কা দেওয়াই এই কৌশলের মূল ভিত্তি বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।





