আদালত প্রাঙ্গণে কয়েক ডজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে কালো পোশাক পরিহিত সারা দুতার্তে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। পুলিশের হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ মামলায় প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি ও প্রেসিডেন্টের এক চাচাতো ভাই জড়িত থাকায় তার শঙ্কা আরও বেড়েছে।
সারা দুতার্তে বলেন, ‘আমি জামিন নিলেও হয়রানি থামবে না। জামিন না নিলে পুলিশ আমাকে নিয়ে যাবে। পুলিশের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই, আদালতের ওপরও কোনো আস্থা নেই। আমি একেবারেই নিরাপদ বোধ করছি না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আজ রাতে আমার মৃত্যু হলে দায় কে নেবে?’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ দায় এড়িয়ে একে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেবে।
তার এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোনভিক রেমুলা ফোনে বলেন, ‘পুলিশ ভাইস প্রেসিডেন্টকে প্রাপ্য সম্মান জানিয়েছে। তবে তার জীবনের সব মানসিক চাপ তার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ সারা দুতার্তের নিরাপত্তার শঙ্কা প্রকাশের বিষয়ে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে কার্যালয় থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছিল, তারা আদালতের যেকোনো আদেশকে সম্মান জানাবে।
মামলাটির সূত্রপাত ২০২৪ সালের নভেম্বরের এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলন থেকে। সেখানে সারা দুতার্তে দাবি করেছিলেন, তিনি এক ভাড়াটে খুনির সঙ্গে কথা বলেছেন। নিজেকে হত্যা করা হলে প্রেসিডেন্ট মার্কোস, তার স্ত্রী লিজা আরানেতা মার্কোস ও তৎকালীন হাউস স্পিকার মার্টিন রোমুয়ালদেজকে যেন হত্যা করা হয়, সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তবে পরে তিনি হুমকি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মধ্য দিয়ে ফিলিপাইনের প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যকার সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। ২০২২ সালে জোটবদ্ধ হয়ে তারা ক্ষমতায় এলেও ২০২৪ সালে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সিনেটে সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়াও চলছে। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি পদ হারাবেন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াইয়ের সুযোগ আটকে যাবে। এছাড়া শিক্ষা সচিবের দায়িত্বে থাকাকালে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সরকারি তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা তিনি নাকচ করেছেন।





