ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেই কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

মার্কিন সেনাবাহিনীর এক সদস্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ করছেন
মার্কিন সেনাবাহিনীর এক সদস্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ করছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও হামলার হুমকির মধ্যেই কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) এর এই হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের ছয় মাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দ্য ডনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরই মধ্যে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ জোরদার করছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক মার্কিন হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো সময়’ ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত।

এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ নিয়ে ইরান ‘নতুন কৌশল’ নিয়েছে, যা ‘আপনাদের ভিত্তি ভেঙে দেবে’।

এর আগে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার পর এই পাল্টা হামলা আরও তীব্র হয়। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, উপকূলীয় শহর কুহেস্তাকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছিটকে আসা ধাতব টুকরার আঘাতে শিশুসহ চারজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সরাসরি ওই হামলার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘আইআরজিসির মতো নয়, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।’

বৃহস্পতিবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তারা প্রতিহত করছে। ইরানের সেনাবাহিনীও জানায়, তারা কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এমন কোনো হামলার খবর জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতির ওপরও চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বুধবার বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরি করবে।

এদিকে ট্রাম্প বুধবার হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার কথা বলেন। ছয় মাস ধরে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে রেখেছে। পরে অবশ্য ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘এখন যেহেতু এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে, হরমুজ প্রণালির নাম কি ট্রাম্প প্রণালি করা উচিত?’

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ওয়াশিংটনকে ‘শয়তান’ বলে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘কোনো শক্তি যদি শয়তানের মতো আচরণ করে, শয়তানের মতো লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং শয়তানের মতো হত্যা করে, তাহলে সেটি শয়তান।’

ইরানে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর জুলাইয়ে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করত।

এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইহুদিদের বড় ধর্মীয় উৎসবের মৌসুমে ইরান হামলা চালালে ইসরাইল ‘বিপুল শক্তি’ দিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। এই ধর্মীয় উৎসবের মৌসুম শুরু হবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ‘এই মুহূর্তে তারা আমাদের ছাড়া পুরো অঞ্চলে হামলা চালাচ্ছে।’

এএম