গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কুলাউড়া পৌর শহরের বিছরাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তামিম আহমদ। অভিযোগে জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এহসান জাকারিয়া, মো. তোফায়েল আহমেদ, সাহেল আহমেদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তামিম আহমদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জেলা কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এহসান জাকারিয়া তামিমের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পরও এহসান জাকারিয়া ও তারেক জামিল তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাতে তামিম কয়েকজনের সঙ্গে মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিছরাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এহসান জাকারিয়াসহ অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন। এসময় এহসান জাকারিয়া আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার নেতৃত্বে তামিমকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এসময় তামিমকে উদ্ধারে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্রসহ হামলা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তামিমসহ সাতজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ বলেন, ‘এর আগে এই চক্র কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িবহরে মৌলভীবাজারে হামলা করেছিল। পরবর্তী সময়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মূল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কসহ অন্যদের ওপর হামলার পর পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে।’
এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। তারা আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
মামলার বাদী তামিম আহমদ বলেন, ‘এহসান জাকারিয়া এনসিপির এক কেন্দ্রীয় নেতার “সোর্স” হিসেবে বিভিন্ন কমিটিতে পদ-পদবি দেয়ার কথা বলে টাকা আদায় করতেন। একইভাবে তারসহ কয়েকজনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটিতে পদ দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। পরে মৌলভীবাজারের কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে বড়লেখায় পৌঁছে দিতে কুলাউড়ায় এলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা করা হয়েছে।’
পুলিশের তদন্তে এহসান জাকারিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।
এসআই ফরহাদ মাতব্বর বলেন, ‘ঘটনার পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘এনসিপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’




