পার্টসের আড়ালে আস্ত বিএমডব্লিউ; পুরোনো নম্বরে চলছিলো সড়কে

পার্টসের আড়ালে আস্ত বিএমডব্লিউ
পার্টসের আড়ালে আস্ত বিএমডব্লিউ | ছবি: সংগৃহীত
0

চট্টগ্রামে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়িটি সম্পূর্ণ অবস্থায় দেশে না এনে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে দুবাই থেকে আমদানি করা হয়। পরে চট্টগ্রামে এনে সেগুলো জোড়া দিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপ দেয়া হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি আটক করেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০১৪ মডেলের বিএমডব্লিউটির বিভিন্ন অংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসের পর কাপ্তাই-চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নেয়া হয়। সেখানে গাড়িটি জোড়া লাগানোর পর নগরীর মুরাদপুর এলাকার একটি গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এরপর গাড়িটি পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ হিসেবে সড়কে চলাচল করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানো গাড়িটিতে একটি পুরোনো বিএমডব্লিউর নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করা হয়। ব্যবহৃত নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১। পরে গাড়িটি নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার একটি ভবনের পার্কিংয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

গাড়িটির আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা। দুবাই থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ পাঠানো, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস এবং পরে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানোর পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

তবে এসব অভিযোগের সবকিছু এখনো তদন্তাধীন। গাড়িটি কীভাবে দেশে আনা হয়েছিল, আমদানির সময় কী ধরনের পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল এবং এর বিপরীতে যথাযথ শুল্ক-কর পরিশোধ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এজন্য গাড়িটির আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, আমদানি ঘোষণা, চালান, প্যাকিং তালিকা, জাহাজীকরণের নথি, গাড়ির কাঠামো ও পরিচিতি নম্বর, আমদানি মূল্য এবং পরিশোধিত শুল্ক-কর যাচাই করা হবে।

পাশাপাশি যন্ত্রাংশ হিসেবে আনা পণ্যগুলো দেশে এনে আইনসঙ্গতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পুরোনো গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করার অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা। গাড়িটির প্রকৃত পরিচিতি নম্বরের সঙ্গে ব্যবহৃত নিবন্ধন নম্বরের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট গ্যারেজের নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

যন্ত্রাংশ আমদানির আড়ালে একটি পূর্ণাঙ্গ বিলাসবহুল গাড়ি দেশে এনে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানো এবং পরে পুরোনো নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে সড়কে চালানোর অভিযোগের ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এফএস