নেপালের চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল অংশে একটি ভূকম্পন বা হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এর ফলে সৃষ্ট কাদার স্রোতে গিরোং-রাসুয়াগাধি সীমান্ত এলাকার দুই পাশেই ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিবৃতিতে দূতাবাস আরও বলে, ‘কাউকে দোষারোপ করে কোনো লাভ হবে না, পারস্পরিক সহযোগিতাই মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।’
এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও নেপালের বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে যে তিব্বত অংশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে নির্মিত কোনো বাঁধ ভেঙে এই জলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে কি না। এছাড়া চীনের মতো উন্নত প্রযুক্তির দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংকেত পাওয়ার পরও কেন ভাটির দেশ নেপালকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠাল না, তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।
নেপালের জাতীয় পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সহসভাপতি ড. গোবিন্দ রাজ পোখরেল এনডিটিভিকে বলেন, অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও চীন কোনো আগাম সংকেত বা ছবি ধরে নেপালকে সতর্ক করতে পারেনি। তিনি জানান, নেপাল অংশে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এই বন্যা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। এমনকি নদীর তীর থেকে মানুষকে সরিয়ে দেয়ার কাজে যুক্ত থাকা পুলিশ সদস্যরাও জলোচ্ছ্বাসের রূপ বুঝতে না পেরে স্রোতে ভেসে গেছেন।
আরও পড়ুন:
সীমান্ত এলাকায় চীনা অংশের বাঁধ ধসের অভিযোগ অস্বীকার করে দূতাবাস জানায়, প্লাবন সৃষ্টিকারী প্রধান ঘটনাটি নেপাল ভূখণ্ডেই উৎপন্ন হয়েছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, কাদাধসের কারণে তিব্বতের গিরোং পোর্টের সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এটি দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ।
বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে যে হিমালয়ের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে বিশাল বরফ ও পাথর ধসে ভোতে কোশি নদীর উপনদী লেন্দে খোলায় প্রকাণ্ড কাদার স্রোত তৈরি হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) নিশ্চিত করেছে, কোনো টেকটোনিক ভূকম্পন নয়, বরং প্রকাণ্ড বরফখণ্ড ধসে পড়ার তীব্র আঘাতেই কম্পন রেকর্ড হয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১৭৭ ছুঁয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
—রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ওয়ান ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির প্রতিবেদনের তথ্য অবলম্বনে





