ইরানে নতুন হামলার বদলে নিষেধাজ্ঞায় জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; মিত্রদের জানালেন রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের বিরুদ্ধে আপাতত নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে কয়েকটি মিত্র দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা ও ঘটনাটি সম্পর্কে জানা আরেকটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক হামলার বদলে এখন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধসহ অন্য উপায়ে চাপ বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এক্সিওসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রুবিও বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে’ ইরানে নতুন হামলা প্রত্যাশিত নয়। তবে ইরান আগে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা হামলার পথ খোলা রাখছে বলেও সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রুবিও সাম্প্রতিক কয়েক দিনে মিত্র দেশগুলোর কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতির কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—আপাতত সামরিক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা, নৌ-অবরোধ ও নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে তেল পরিবহন নিশ্চিত করা।

এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর মাইন অপসারণ যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে ‘বড় মোড়’ তৈরি করেছে এবং এতে ইরানের চাপ সৃষ্টির বড় একটি উপায় অনেকটাই ভোঁতা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রণালির দক্ষিণ দিকের লেন দিয়ে বেশি বেশি ট্যাংকার চলাচল করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইরানের প্রভাব কমে এসেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানিরা প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের রাজস্ব প্রবাহ কমছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত দুই সপ্তাহে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশে প্রায় কোনো ট্যাংকার দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে অ্যাক্সিওসকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতি মুক্ত পতনে আছে এবং সরকারপক্ষের সামরিক সক্ষমতা বড় ধাক্কা খেয়েছে। আমরা সরকারের হাতে থাকা প্রতিটি আর্থিক জীবনরেখা বন্ধ করে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না এবং সেই লক্ষ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উপায় তিনি ব্যবহার করবেন।’

এদিকে ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রোববার তেহরানে যান। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সৌদি-সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল আল-আরাবিয়ার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরান সফরের আগে আসিম মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইরানিদের জন্য একটি নতুন প্রস্তাবের কথা তোলেন। তবে হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরান নিয়ে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বা নির্ধারিতও নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং নেবেন তারা।

এএম